Showing posts with label Bangladesh Politics. Show all posts
Showing posts with label Bangladesh Politics. Show all posts
2013-12-28
বিরোধী জোটের কর্মসূচিকে ঘিরে ঢাকায় সংঘর্ষ
Labels:intertainment
Bangladesh Politics
Location:
Bangladesh
থাকবেন খালেদা, প্রতিহতের ঘোষণা আওয়ামী লীগের
Labels:intertainment
Bangladesh Politics
Location:
Bangladesh
২০১৩ সালের আলোচিত দশ মন্তব্য
Labels:intertainment
Bangladesh Politics
Location:
Bangladesh
2013-12-27
হলফনামা গোপন করা হলে আদালতে যাবে সুজন
2013-12-25
2013-12-20
বাংলাদেশের নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে না ইইউ
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন৷ এক বিবৃতিতে ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ক্যাথরিন অ্যাশটন জানিয়েছেন একথা৷ এদিকে নির্বাচনের সময় সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে৷
বাংলাদেশে আগামী পাঁচ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে৷ প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এই নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে৷ তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী দলকে ছাড়াই নির্বাচনের পক্ষে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন৷ এমতাবস্থায় আসন্ন নির্বাচনে পর্যবেক্ষক না পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন৷
শুক্রবার এক বিবৃতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ক্যাথরিন অ্যাশটন জানিয়েছেন, ‘‘বাংলাদেশের নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়টি স্থগিত করা হয়েছে৷''
অ্যাশটন মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলো ‘স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য' নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে৷ তবে গ্রহণযোগ্য পরিবেশ তৈরি হলে সিদ্ধান্ত বদলাতেও পারে ইইউ৷
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘৫ জানুয়ারি যে ১৪৬টি আসনে নির্বাচন হবে সেখানে সরকার চেষ্টা করবে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে মেরে কেটে ৮০ ভাগের বেশি ভোটার হাজির করার৷ এর মাধ্যমে বিদেশিদের দেখানোর চেষ্টা করা হবে যে, নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়েছে, ভোটারদেরও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল৷ কিন্তু এই নির্বাচন কোনোভাবেই দেশবাসী বা বিদেশিদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না৷''
এদিকে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২৬ ডিসেম্বর থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৫ দিন সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন৷ শুক্রবার ঢাকায় এক বৈঠক শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ এ তথ্য জানান৷
2013-12-19
বাংলাদেশ নিয়ে পাকিস্তানের নাক গলানোর কিছু নেই
ঢাকা:যুদ্ধাপরাধীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বাংলাদেশীদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি। তারা চেয়েছেন এ শাস্তির পরিবর্তে মৃত্যুদণ্ড। এটাই বাংলাদেশে জনপ্রিয় দাবি। ঘটনা যদি তা-ও না হয় তাহলেও এটা পাকিস্তানের কোন বিষয়ই নয়। এ নিয়ে পাকিস্তানের নাক গলানোর কিছু নেই। গতকাল পাকিস্তানের দ্য নেশন পত্রিকায় প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে এসব কথা বলা হয়। এতে বলা হয়, জাতি হিসেবে পাকিস্তানিরা অভিযুক্ত খুনি ও ধর্ষককে বীর হিসেবে মেনে নেয়ার পক্ষে নয়।
এতে বলা হয়, আমাদেরকে বিব্রত করবেন না। ‘রেজ্যুলুটলি সাপোর্টিং রং’ শীর্ষক ওই সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়, দেখা যাচ্ছে যে, বেশ কিছু ইস্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেক নেতা কঠিন সমস্যার মুখে পড়েছেন। তাদের সবার হয়তো যৎকিঞ্চিৎ সহায়তা প্রয়োজন। আর সে জন্যই তাদেরকে বলা যায় এখন আর পূর্ব পাকিস্তান নেই। এর পরিবর্তে সৃষ্টি হয়েছে স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ নামের দেশটি। এখানে বসবাস বাঙালিদের।
এখানে আগের অথবা পরবর্তী সময়ের কোন পাকিস্তানি নেই। আছে শুধু বাঙালিরা। যারা পূর্ব পাকিস্তানের ধারণায় বিশ্বাস করেন তাদের জন্য একটি অমোঘ সত্য বার বার জানিয়ে দেয়ার দরকার নেই। পাকিস্তানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে বাংলাদেশে জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লাকে ফাঁসি দেয়ার পর যে প্রস্তাব আনা হয়েছে তাদেরকে সেদিকে সংক্ষেপে নজর দেয়ার অনুরোধ করা হলো। দৃশ্যত, ৪৪ বছর আগে হতাশার মধ্য দিয়ে যে ভাঙন হয়েছে তা ভুলে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।
পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বক্তব্য রাখার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিসার আলী খান দাবি করেছেন, কাদের মোল্লাকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে পাকিস্তানকে সমর্থন করার কারণে এবং তিনি ছিলেন একীভূত পাকিস্তানের পক্ষে এ কথাই সত্য। তিনি আরও দাবি করেছেন, জামায়াতে ইসলামীর এ নেতাকে ফাঁসি দেয়ার কারণে জাতি গভীরভাবে শোকে মুহ্যমান। কিন্তু, তার এ কথা মিথ্যা। এর সর্বৈব মিথ্যা। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাবি করেন, বাংলাদেশে পাকিস্তানের সমর্থকদের জন্য কোন স্থান নেই। কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে যে চার্জশিট দেয়া হয়েছে তাতে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। তাতে ১৯৭১ সালে ‘পাকিস্তানকে সমর্থন করা’কে কোথাও অপরাধ হিসেবে দেখানো হয় নি।
এতে রয়েছে হত্যা, অনেক নারী-পুরুষ ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ। এসব হচ্ছে জঘন্যতম অপরাধ। এর জন্য তার বিচার হয়েছে। তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ফাঁসি দেয়া হয়েছে। নিসার আলী খান একজন মওসুমি রাজনীতিক। তিনি নিশ্চয়ই জানেন যে, দেশপ্রেম দেখাতে ও একীভূত দেশের পক্ষে সমর্থন জানানোর জন্য নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের চেয়েও উত্তম পন্থা আছে। দ্বিতীয়ত, নিসার আলী খানের জ্ঞানের পরিধির জন্য বলতে হয়, বাংলাদেশী কোন নাগরিক তার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত একীভূত পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন এটা একটি গর্বের বিষয়। কিন্তু যখন একজন পাকিস্তানি একীভূত ভারতের পক্ষে সমর্থন দেবেন সেক্ষেত্রে তিনি কি বলবেন? তৃতীয়ত, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর অধিকার নেই পাকিস্তানের। বাংলাদেশে যে যুদ্ধাপরাধের বিচার চলছে তা ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, এক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বাংলাদেশীদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি।
এ বিচার বাংলাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়। এখানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পরিবর্তে মৃত্যুদণ্ডের জন্য জোরালো দাবি উঠেছে। তারপরও বলতে হয়, ঘটনা যদি সেটাও না হয় তাহলেও বলা যায় এটা পাকিস্তানের কোন বিষয় নয়। এটা বাঙালিদের ক্ষোভের বিষয়। এটা তাদের নির্যাতিতদের বিষয়। এটা তাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়। এরই মধ্যে এ ঘটনায় বাংলাদেশে পাকিস্তান হাইকমিশনে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে পার্লামেন্টের ওই প্রস্তাবের। তারা পাকিস্তানের পার্লামেন্টের ওই প্রস্তাব প্রত্যাহার করার দাবি করেছেন। জাতি কখনও খুনি ও ধর্ষকের পক্ষে থাকতে পারে না।
নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিতে মহাসড়কে সেনাবাহিনী
ঢাকা: অবরোধে সহিংসতা এড়িয়ে নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব মহাসড়কে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন সুত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এছাড়াও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বঙ্গবন্ধু সেতুর নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছে ১৫০ জন সেনাবাহিনী। সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক বিল্লাহ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সুত্র জানায়, শীতকালীন মহড়ায় অংশগ্রহণের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে ও নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে দেশের প্রধান প্রধান সড়ক- মহাসড়কে থাকবে সেনাবাহিনী। যে কোনো নাশকতামূলক কর্মকান্ড প্রতিহত করতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার দিনভর সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকটি টিমকে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
সাভারের উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা কামরুল হাসান মোল্যা সেনাবাহিনীর দায়িত্ব পালনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘জনগনের স্বার্থে সেনাবাহিনী অর্থনৈতিক যোগাযোগ ঠিক রাখতে মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করছে।’
এছাড়াও সাতক্ষীরা থেকে আমাদের প্রতিনিধি জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি দল সাতক্ষীরা শহরে গিয়ে পৌঁছায়। এর পরপর কিছু গণমাধ্যমে ‘সাতক্ষীরায় সেনা মোতায়েন’ উল্লেখ করা হলেও জেলা প্রশাসক ও আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, এটা শীতকালীন মহড়ার অংশ।
‘শহরে পৌঁছেই সেনাসদস্যরা জেলা স্টেডিয়ামসহ বেশ কিছু এলাকা পরিদর্শন করেছেন’ উল্লেখ করে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক ড. মো. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার জানান, তারা রেকি করছে।
আন্তঃ বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) পরিচালক শাহিনুল ইসলাম এটিএন টাইমসকে জানান, আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সাতক্ষীরায় সেনা মোতায়েন করা হয়নি। সেখানে শীতকালীন মহড়া দিচ্ছেন সেনা সদস্যরা। এ কারণে কয়েকটি টহল গাড়ি দেখা গেছে।
“যে সব গণমাধ্যম সেনা মোতায়েনের সংবাদ প্রকাশ করেছে তারা জাতিকে ভুল তথ্য দিচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, এটা নিরাপত্তার দায়িত্বের কোনো টহল নয়।
এবার জামায়াতের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী মামলা
ঢাকা: আশা করছি, চলতি ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন পাবো এবং তারপরই আমরা জামায়াতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফর্মাল চার্জ) দাখিলের প্রস্তুতি নেবো বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম। এর মধ্য দিয়েই দল হিসেবে জামায়াতের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক মামলা করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের কৌশুলীরা।
জামায়াতের বিরুদ্ধে তদন্তের বিষয়টি গত ১৮ আগস্ট নথিভুক্ত হয়। এর পর থেকেই জামায়াতের বিরুদ্ধে তদন্ত করছেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার তদন্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান। সংশ্লিষ্টদের আশাবাদ, তদন্ত শেষ করে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরেই প্রতিবেদন দেবেন তদন্ত সংস্থা। তার ভিত্তিতে নিয়ম অনুযায়ী প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করবেন। আর তার পরই ট্রাইব্যুনাল এ অভিযোগ আমলে নিলে জামায়াতের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
উল্লেখ্য, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে ২০১০ সালের ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়। বিচারিক কার্যক্রম দ্রুততর করতে গত বছরের ২২ মার্চ গঠিত হয় দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল। গত ৩ বছর ৯ মাসে ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ের ভিত্তিতে এক শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।
এছাড়াও দুই ট্রাইব্যুনাল মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে আরও ৮টি মামলার রায়, যেগুলোতে আরও ৯ যুদ্ধাপরাধীর সাজা ঘোষিত হয়েছে। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে ৭ জনই পেয়েছেন সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডাদেশ, ১ জনের ৯০ বছর ও একজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্য এক শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হয়ে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। বর্তমানে দুই ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে আরও ৫ জনের, বিচার শুরু হতে যাচ্ছে ২ জনের, তদন্ত চলছে আরও ১১ জনের বিরুদ্ধে।
আর রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের বিরুদ্ধে তদন্ত করছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
সব মিলিয়ে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন অথবা হতে যাচ্ছেন মোট ২৯ ব্যক্তি এবং দলগতভাবে জামায়াত।
প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম আরও বলেন, এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এ পর্যন্ত দেওয়া প্রায় প্রতিটি রায়ের পর্যালোচনায় জামায়াতকে একটি ক্রিমিনাল অর্গানাইজেশন বলে অভিহিত করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে দলবদ্ধভাবে তাদের মানবতাবিরোধী বিভিন্ন অপরাধের কথাও বলা হয়েছে।
জামায়াতের বিরুদ্ধে কি ধরনের সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিভিন্ন ধরনের বই পু্স্তক, সে সময়ের পত্রিকা, বিভিন্ন নিবন্ধ থাকছে। জামায়াতের বিরুদ্ধে বিশেষজ্ঞ সাক্ষীরাও সাক্ষ্য দিতে আসবেন।
জামায়াতের বিরুদ্ধে তদন্তকারী কর্মকর্তা মতিউর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, জামায়াতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ডকুমেন্টেশন (বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত, দলিল) তৈরি করছি। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকা, দেশের বাইরের প্রথিতযশা ব্যক্তিদের বিভিন্ন প্রবন্ধ, নিবন্ধসহ নানা বিষয় নিয়ে কাজ করছি। এ ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমি থেকেই বেশিরভাগ দলিল পত্র নিয়েছি আমরা, যেগুলো আমাদের প্রতিবেদন তৈরিতে অনেকাংশেই সাহায্য করেছে।
মতিউর রহমান বলেন, আমরা এতোদিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছি, কিন্তু জামায়াত একটি সংগঠন। ব্যক্তির বিরুদ্ধে যেভাবে মামলা করেছি, সেভাবে একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে মামলা হবে না, দুটো ভিন্ন ভিন্ন প্রক্রিয়া।
কোন কোন বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত করছেন? জানতে চাইলে মতিউর রহমান বলেন, জামায়াতের অতীত কার্যকলাপ, গঠনতন্ত্র, হাইকমান্ড ইত্যাদি বিষয়ের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের কর্মকাণ্ডের যেসব যেসব তথ্য-প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে সেগুলোসহ অতীত এবং বর্তমান সময়ে করা তাদের অপরাধগুলোও এ তদন্তে প্রাধান্য পাবে।
মতিউর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন’১৯৭৩ এ মানবতাবিরোধী যেসব অপরাধের বর্ণনা ও সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তার সবগুলোর ভিত্তিতেই তদন্ত চলছে।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে দল হিসেবে জামায়াতের ভূমিকা, তাদের নেতাদের ভূমিকাগুলোকে অপরাধ হিসেবে দেখতে হবে। আর সংগঠনের নেতাদের কার্যকলাপের দায়ভার সংগঠনের ওপর বর্তায়। এটা শুধু জামায়াতের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়, বিশ্বব্যাপী এ নীতিই অনুসরণ করা হয়।
যারা একাত্তরে জামায়াতের সদস্য হয়ে বিভিন্ন অপরাধ করেছেন, মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে সশস্ত্র বিরোধিতায় অংশ নিয়েছেন, স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে কাজ করেছেন তাদের কর্মের দায়ভারও জামায়াতকে নিতে হবে। কারণ, তারা এই দল ও তার নেতৃত্বে গড়া পাকিস্তানি হানাদারদের বিভিন্ন সহযোগী বাহিনীর (রাজাকার, আলবদর, আলশামস, শান্তি কমিটি ইত্যাদি) হয়ে কাজ করেছেন।
জামায়াতের বিরুদ্ধে বিস্তৃত পরিসরে চলমান এই তদন্ত কাজকে অত্যন্ত কঠিন আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, কঠিন কাজ। কিন্তু আমরা আশাবাদী, খুব তাড়াতাড়িই আমরা তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেবো।
একই কথা বলেন তদন্ত সংস্থার জ্যেষ্ঠ সম্বন্বয়ক আব্দুল হান্নান খানও। তিনিও বলেন, কঠিন কাজ। কিন্তু বিচারের মুখোমুখি জামায়াতকে দাঁড়াতেই হবে।
তদন্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান বলেন, আমরা মনে করি, জামায়াত কোনোভাবেই ইসলামিক রাজনৈতিক দল বা সংগঠন নয়। তারা যথার্থই একটি ক্রিমিনাল অর্গানাইজেশন (অপরাধী সংগঠন)।
তিনি বলেন, এই জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে। তারপর থেকে স্বাধীন বাংলাদেশেও তারা তাদের সেই একই ধারা অব্যাহত রেখেছে।
দলের বিচার প্রসঙ্গে প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচারে ন্যুরেমবার্গ ট্রায়ালে দলের বিচার হয়েছে, এটা আমরা জানি। আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন’১৯৭৩ এ প্রথমে দলের বিচারের বিষয়টি ছিল না, আইনটির সীমাবদ্ধতা ছিল। কিন্তু গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আইনটিতে যে সংশোধনী আনা হয়েছে, সেখানে দলের বিচারের বিষয়টি সংযুক্ত করে সীমাবদ্ধতা দূর করা হয়েছে। তাই দলের বিচার করতে এখন আর কোনো বাধা নেই।
সংশোধিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে একটি দলের শাস্তি কি হবে সে বিষয়ে কিছু লেখা নেই বলে জানতে চাইলে তুরিন আফরোজ বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন’১৯৭৩ এর ধারা ২০ এ স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে, অপরাধের ভয়াবহতার ওপর নির্ভর করে অপরাধীর সাজা হবে। এটি একটি দলের ক্ষেত্রেও আদালত বলতে পারেন। আদালত দলটি নিষিদ্ধ করতে পারেন, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারেন, জরিমানা করতে পারেন কিংবা ক্ষতিপূরণ চাইতে পারেন।
দলটির শাস্তি নির্ধারণের জন্য আইন সংশোধনের প্রয়োজন নেই বলেও জানান তুরিন আফরোজ।
এটি অন্যান্য যে কোনো মামলার চেয়ে অন্যরকম এবং বড় একটি মামলা। অনেক তদন্তের বিষয় আছে এখানে। আর জামায়াতের বিচারের জন্য তাদের বিরুদ্ধে থাকা তথ্য-প্রমাণগুলো এখন আমাদের হাতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান।
জামায়াতের বিরুদ্ধে তথ্য-উপাত্ত সর্ম্পকে প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজও বলেন, আমাদের কাছে ‘মোর দ্যান এনাফ এভিডেন্স’ রয়েছে।
ব্যারিস্টার তুরিনের মতে, ট্রাইব্যুনাল কয়েকটি রায়ের পর্যবেক্ষণে জামায়াতকে ‘অপরাধী সংগঠন’ বলায় তদন্তে সুবিধা হয়েছে। বিশেষ করে যখন দলটির শীর্ষ নেতা গোলাম আযম, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের মামলার রায়ে একাত্তর সালে জামায়াতের ভূমিকার কথা বলা হয়, তখন সেটি তদন্তকাজে অনেক সহায়তা করেছে।
তুরিন বলেন, এই ব্যক্তিরা কিন্তু কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে তখন মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা বা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেননি, দলের ভাব দর্শনের কারণেই করেছিলেন। একটা দলের অধীনে থেকেই তারা এ অপরাধ করেছেন।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া গত ৯টি রায়ের প্রায় সবকটিরই পর্যালোচনায় ট্রাইব্যুনাল জামায়াতকে একটি ক্রিমিনাল অর্গানাইজেশন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ে বলা হয়, ‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানকে রক্ষা করতে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা দিতে আলবদর, আলশামস, রাজাকার বাহিনী গড়ে তোলে। আলবদর ও আলশামস বাহিনী ছিল রাজাকার বাহিনীরই দু’টি শাখা।
এসব বাহিনী মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করেছে। বিশেষ করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের শেষ মুহূর্তে আলবদর বাহিনী দেশের শত শত বুদ্ধিজীবীকে ধরে হত্যা ও নির্যাতন করে’।
রায়ে বলা হয়, ‘এটা প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের সদস্যদের নিয়ে আলবদর বাহিনী গঠন করা হয়। এছাড়া জামায়াতের সদস্যদের নিয়ে গঠন করা হয় রাজাকার বাহিনী। এ আধা সামরিক দু’টি বাহিনীর মধ্যে রাজাকাররা পাকিস্তান সরকারের বেতনভুক্ত ছিল। এসব বাহিনীর মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী ১৯৭১ সালে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ, দেশান্তরের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করেছে। ওইসব বাহিনী নিয়ন্ত্রিত হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর হাতে। এর প্রমাণ একাত্তরে দৈনিক সংগ্রামসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে জামায়াত নেতাদের প্রকাশিত বক্তব্য-বিবৃতি। ইসলাম রক্ষার নামে জামায়াত মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতাকামী মানুষকে দুস্কতিকারী ও ইসলামের শক্র হিসেবে উল্লেখ করেছে’।
‘নিরস্ত্র মানুষ, হিন্দু সম্প্রদায়, আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক, বুদ্ধিজীবীদের হত্যায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অপকর্মের সঙ্গে সহযোগী বাহিনী হিসেবে জামায়াতের গড়া রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনী মানবতাবিরোধী অপরাধের সংশ্লিষ্ট থাকে’।
অন্যদিকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দিয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের মামলার রায়ে এশিয়াটিক সোসাইটি প্রকাশিত ‘মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা ১৯৭১’ নামের একটি বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে জামায়াত সম্পর্কে বলা হয়, ‘জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানি সামরিক জান্তাকে সমর্থন করে’। রায়ে আরো বলা হয়, ‘পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিশেষ কর্মকর্তাদের দিয়ে আলবদর বাহিনী পরিচালনা করা হতো’।
ওই রায়ে রায়ে বলা হয়, ‘দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকা জামায়াতে ইসলামীর মুখপত্র। এ পত্রিকায় ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল পূর্ব পাকিস্তান গর্ভনর লে. জেনারেল টিক্কা খানের সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের আমির ও শান্তি কমিটির সদস্য অধ্যাপক গোলাম আযমের বৈঠক নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়’।রায়ে বলা হয়, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের নিশ্চিহ্ন করতে শান্তি কমিটিতে জামায়াতে ইসলামী প্রধান ভূমিকা পালন করে’।
১৯৭১ সালের ২০ জুন দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার এক প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে রায়ে বলা হয়, ‘এই জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম আযম পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে এক সমাবেশে স্বাধীনতার সপক্ষের ব্যক্তিদের দুস্কৃতকারী হিসেবে উল্লেখ করেন’।
১৯৯২-৯৩ সালে শ্রীলঙ্কায় দায়িত্বরত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত হুসেইন হাক্কানীর লেখা ‘পাকিস্তান বনাম মসজিদ ও সশস্ত্র বাহিনী’ বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে রায়ে বলা হয়, ‘মূলত পাকিস্তানি বাহিনী ও জামায়াতে ইসলামীর নীতি ও পরিকল্পনা ছিল এক ও অভিন্ন। জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের কর্মীদের বিশেষ করে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্রদের নিয়ে আলবদর বাহিনী গঠন করা হয়। এ বাহিনী অধ্যাপক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, চিকিৎসকদের হত্যা করে’। (দেশবিদেশ
বাংলাদেশি দূতাবাস উড়িয়ে দেয়ার হুমকি
পাকিস্তানের সঙ্গে অস্থায়ীভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চের ঢাকায় পাকিস্তান দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচিতে লাঠিপেটা করেছে পুলিশ৷ এদিকে, পাকিস্তানে বাংলাদেশি দূতাবাস উড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে তালেবান৷
বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটার দিকে গুলশান-২ নম্বর চত্বরে জড়ো হন গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা৷ তাঁরা পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গুলশান এলাকায় ঢাকার পাকিস্তান হাইকমিশন ঘেরাওয়ের প্রস্তুতি নিতে থাকেন৷ তখনই আগে থেকে সেখানে অবস্থান নেয়া পুলিশ সদস্যরা গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীদের ওপর হামলা চালায়৷ তাঁরা লাঠিপেটা করে কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেন৷
গণজাগরণ মঞ্চের মারুফ রসুল সংবাদ মাধ্যমকে জানান, পুলিশের লাঠিপেটায় মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকারসহ বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন৷ তিনি জানান, ইমরানকে পুলিশ দু'দফায় লাঠিপেটা করলে তিনি মাথা, বুক ও পিঠে আঘাত পান৷ তাঁকে প্রথমে ল্যাবএইড এবং পরে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেয়া হয়৷
জানা গেছে, ইমরান এইচ সরকারকে পুলিশ কিছুক্ষণ আটক রেখে ছেড়ে দিলেও ঘটনাস্থল থেকে গণজাগরণ মঞ্চের ১১ জন কর্মীকে আটক করা হয়েছে৷ তবে পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার শাহাবুদ্দিন আহমেদ জানান, তাঁরা গণজাগরণ মঞ্চের নেতা-কর্মীদের লাঠিপেটা বা নির্যাতন করেননি৷ ঐ এলাকা কূটনৈতিক পল্লি হওয়ায় স্পর্শকাতর এলাকা থেকে তাঁরা গণজাগরণ মঞ্চের নেতা-কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছেন৷ তবে কয়েকজনকে আটকের কথা স্বীকার করেন তিনি৷গণজারণ মঞ্চের এই কর্মসূচিতে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং মুক্তিযোদ্ধারাও যোগ দেন৷
এর আগে গত বুধবার একই দাবিতে মঞ্চের কর্মীরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে গুলশানে পাকিস্তান হাইকমিশন ঘেরাও করে৷ তাঁরা ঘেরাও পরবর্তী সমাবেশে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক অস্থায়ীভাবে ছিন্ন করতে ২০ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন৷ ২০ ঘণ্টা শেষ হওয়ার পর একই দাবিতে বৃহস্পতিবারের কর্মসূচি শুরু হয়েছিল৷সমাবেশ ছত্রভঙ্গ হওয়ার পর ইমরান এইচ সরকার আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন৷
যুদ্ধাপরাধের দায়ে গত ১২ ডিসেম্বর জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে নিন্দা প্রস্তাব পাস হয়৷ পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিসার আলি একে ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ড' বলে অভিহিত করেন৷ আর পাকিস্তান জামায়াত সেদেশের সরকারকে বাংলাদেশ আক্রমণের আহ্বান জানায়৷ ঢাকা অবশ্য পাকিস্তানি হাইকমিশনারকে তলব করে এর ব্যখ্যা চেয়ে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে৷ নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও৷ আর গণজাগরণ মঞ্চ পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক অস্থায়ীভাবে ছিন্ন করার দাবি জানিয়েছে৷
এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক মুনতাসির মামুন ডয়চে ভেলেকে বলেন, গণজাগরণ মঞ্চ যে অবস্থান থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিতের দাবি জানিয়েছে তা ঠিকই আছে৷ কিন্তু সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় সবদিক বিবেচনা করে৷ তবে গণজাগরণ মঞ্চের শান্তিপূর্ণ অবস্থানে পুলিশের লাঠিপেটা গ্রহণযোগ্য নয়, বলে মন্তব্য করেন তিনি৷
এদিকে পাকিস্তানে বাংলাদেশের দূতাবাস বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান নামে একটি জঙ্গি সংগঠন৷ পাকিস্তানের ‘দ্য নেশন' পত্রিকা এ খবর দিয়েছে৷ পত্রিকাটি জানায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করায় তারা এই হুমকি দেয়৷ জঙ্গি সংগঠনটি কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরকে ‘হত্যাকাণ্ড' বলে অভিহিত করেছে৷
অধ্যাপক মুনতাসির মামুন বলেন, জামায়াতের যে জঙ্গিদের সঙ্গে সম্পর্ক আছে, তা অনেক আগে থেকেই জানা৷ এবার কাদের মোল্লার জন্য তালেবানের হুমকিতে সেটা আবারো প্রমাণিত হলো৷ জামায়াত পাকিস্তানের প্রতি অনুগত তা পাকিস্তানের ভূমিকায় প্রমাণিত৷ তবে জেনেভা কনভেশন অনুযায়ী পাকিস্তান সরকার সেদেশে বাংলাদেশি দূতাবাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলে তিনি আশা করেন৷
এদিকে, তালেবানের হুমকির বিষয়টি পাকিস্তানকে জানানো হয়েছে বলে বাংলাদেশে ডয়চে ভেলের কন্টেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টফোর ডটকমকে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মো: শামীম আহসান৷ বাংলাদেশের দূতাবাস ও সেখানকার কর্মীদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার ব্যাপারে পাকিস্তান বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি৷
বাংলাদেশ সংক্রান্ত বিলের খসড়া ছিঁড়ল মমতার দল
বিরোধী কয়েকটি দলের প্রতিবাদ সত্ত্বেও ভারত-বাংলাদেশ স্থলসীমা চুক্তি সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল ভারতের সংসদে পেশ করা হয়েছে৷ এর পরপরই সংসদের শীতকালীন অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি হয়ে যায়৷
আগামী মাসে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের ঠিক আগে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ছিটমহল হস্তান্তর সংক্রান্ত স্থলসীমা চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য ১১৯ তম সংবিধান সংশোধনী বিলটি ভারতীয় সংসদের শীতকালীন অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি হয়ে যাবার কয়েক মিনিট আগে উচ্চকক্ষ রাজ্যসভাতে পেশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সলমান খুরশিদ৷ এর আগের অধিবেশনে কেন্দ্র চেষ্টা করেও তা পেশ করতে পারেনি৷ বিশেষ করে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস এবং আসাম গণপরিষদের বাধার কারণে৷ এবারেও একই দৃশ্য৷ তৃণমূল এবং এজিপির সাংসদরা বিলের খসড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হাত থেকে কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন৷ ছুটে যান স্পিকারের মঞ্চের দিকে৷ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সভার অধিবেশন মুলতুবি রাখতে হয়৷ লক্ষ্যণীয়, বিজেপি মৌখিক প্রতিবাদ করলেও হৈ-হট্টগোল থেকে দূরে ছিল৷
যেনতেন প্রকারে শেষ মুহূর্তে বিল পেশ করার একটিই কারণ – সরকার মনে করে, সংসদের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও বিলটিকে জিইয়ে রাখতে পারলে আগামী বছরের মাঝামাঝি নতুন সংসদে তা পাস করাতে সুবিধা হবে৷
পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন, প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে মৈত্রী সম্পর্ক বজায় রাখা ভারতের জাতীয় স্বার্থের পক্ষে যে কতটা জরুরি তার জন্য নেপথ্যে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে ক্রমাগত সওয়াল করে যায় মনমোহন সিং সরকার৷ ২০১৪ সালে উভয় দেশেই সংসদীয় নির্বাচন৷ ভারতে কংগ্রেস বা বিজেপি যে দলই ক্ষমতা আসুক বাংলাদেশকে দেয়া স্থলসীমা চুক্তি বাস্তবায়নে ভারত যদি তার অঙ্গীকার পালন করতে না পারে, তাহোলে তার পরিণাম খারাপ হবে৷ পাশাপাশি, বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপুমনি কয়েকবার দিল্লিতে এসে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকে বোঝাবার চেষ্টা করেন এই বলে যে, এই চুক্তি বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে শেখ হাসিনার হাত শুধু শক্তই করবে না, দুদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নিয়ে যাবে এক স্থায়ী উচ্চতায়৷
শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় সরকার এবং বাংলাদেশ সরকারের তরফে মমতা বন্দোপাধ্যায়কে নানাভাবে রাজি করাবার চেষ্টা করা হয় অতীতে, কিন্তু তিনি তাঁর আপত্তিতে অবিচল৷ তাঁর আপত্তির কারণ, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলির বিনা সম্মতিতে একতরফাভাবে এই বিল পেশ করা হয়েছে৷ এই চুক্তি কার্যকর হলে আসাম, ত্রিপুরা এবং উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির চেয়ে বেশি ক্ষতি হবে পশ্চিমবঙ্গের৷ রাজ্যের ১৭ হাজার একর জমি চলে যাবে বাংলাদেশে৷ বিনিময়ে পাবে মাত্র ৭ হাজার একর জমি৷ এটা মেনে নেয়া যায় না৷ মমতার ভাষায়, ‘‘সংসদীয় ভোটের আগে কংগ্রেসকে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে দেয়া হবে না৷''
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমন কল্যাণ লাহিড়ি ডয়চে ভেলেকে এই প্রসঙ্গে বলেন, পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থে কেন্দ্রের উচিত আরো কড়া অবস্থান নেয়া৷ যেহেতু এটা আন্তর্জাতিক চুক্তি, তাতে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বক্তব্য থাকতে পারে, কিন্তু তা মানা কেন্দ্রের পক্ষে বাধ্যতামূলক নয়৷ এখানে যেহেতু সার্বভৌম রাষ্ট্রের জমি হস্তান্তরের প্রশ্ন জড়িত, তাই সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন দরকার৷
বিশ্বজিৎ হত্যার রায় ও পাকিস্তান প্রসঙ্গ
ব্লগওয়াচ
বিশ্বজিৎ হত্যার রায় এবং কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করা নিয়ে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে নিন্দা প্রস্তাব গৃহীত হওয়া – এই দুটি বিষয় নিয়ে ফেসবুক ও ব্লগে অনেকেই অনেক মন্তব্য করেছেন৷ তাদের প্রতিক্রিয়ার কিছু অংশ তুলে ধরা হলো৷
সামহয়্যার ইন ব্লগে আব্দুর রহমান মিল্টন লিখেছেন, ‘‘বিশ্বজিৎ দাসের পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে বলে মনে করছি, রায়ে আমি খুশি৷'' আলোচিত বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার রায়ে আট জনকে ফাঁসি ও ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত৷ এই রায় প্রদানের জন্য আদালত ও আওয়ামী লীগ সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মিল্টন৷ ‘‘এখন দণ্ডাদেশ প্রাপ্তদের গ্রেফতার ও রায় কার্যকর করুন! এই খুনীদের কোনো ছাড় নয়, কোনো অনুকম্পা নয়৷ ....আমি আর দশটা হত্যাকাণ্ডের সাথে এই হত্যা মেলাতে পারিনি, তাই আমি বিশ্বজিৎ দাসকে ধারণ করতে চেয়েছি আমার হৃদয়ে৷''একই ব্লগে এম আই এইচ রাজন রায়ের তথ্য তুলে ধরে বিশ্বজিৎকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছিল তা উল্লেখ করেছেন৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘গত বছর ৯ ডিসেম্বর সকালে পুরান ঢাকার ৫৩ নম্বর ঋষিকেশ দাস রোডের বাসা থেকে তাঁতীবাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে দর্জির কাজ করা বিশ্বজিৎ দাসকে পুরান ঢাকার জজকোর্ট এলাকায় চাপাতি দিয়ে উপর্যুপরি কোপানো হয়৷ এরপর হাসপাতালে নেয়া হলে মৃত্যু হয় তার৷''
একই বিষয় নিয়ে ফেসবুকে নাহিদ দীপা লিখেছেন, ‘‘যাক, বিশ্বজিৎ হত্যার রায় হলো, এখন বাস্তবায়নের অপেক্ষা৷'' রুহুল মাহফুজ জয় লিখেছেন, ‘‘বিশ্বজিৎ হত্যার বিচার হলো৷ সরকারকে ধন্যবাদ৷ এবার সাগর-রুনি ভাবির হত্যাকারী, ত্বকীর হত্যাকারীর বিচার হোক৷ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হোক বাংলাদেশে...অপরাধীরা আতঙ্কে থাকুক৷''
প্রসঙ্গ পাকিস্তান
সামহয়্যার ইন ব্লগে হাবিবুর রহমান জুয়েলের পোস্টের শিরোনাম, ‘‘পাকিস্তান সাবধান৷'' তিনি লিখেছেন, ‘‘একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের বিষয়ে এভাবে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে সিদ্বান্ত গ্রহণের স্পর্ধা দেখে আমরা মর্মাহত৷ আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করছি৷...১৯৭১ সালে যে বাঙালিদের আপনারা দেখেছিলেন, ২০১৩'য় এসে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সেই বাঙালি আরও এক হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী হয়েছে৷ সুতরাং সাবধান৷ ১৯৭১ এ লেগেছিল ৯ মাস, ২০১৩ তে লাগবে মাত্র ৯দিন৷''
একই ব্লগে সুফিয়া লিখেছেন, ‘‘বাংলাদেশ স্বাধীন হবার ৪২ বছর পর হলেও আমরা স্বাধীনতার বুকে আঁকা কলঙ্ক তিলক মুছে ফেলার সফল উদ্যোগ শুরু করতে পেরেছি৷ দেশের প্রচলিত আইনে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মিরপুরের কসাই খ্যাত কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করতে পেরেছি৷ এর মধ্য দিয়ে আমাদের দ্বিতীয় বিজয়ের পথ সূচিত হলো৷...অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধীরা পাকিস্তানের প্রেতাত্মা –এই শ্লোগান মানুষের মুখে মুখে উঠে এলেও কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর হবার পর পাকিস্তান পার্লামেন্টে তার জন্য শোক প্রস্তাব এই কথাটি আর একবার প্রমাণ করে দিল৷পাকিস্তানের পার্লামেন্টে কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর করায় নিন্দা প্রস্তাব গৃহীত হয়৷ অর্থাৎ ‘কসাই কাদের মোল্লা'কেই যে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়েছে তার বিশ্বাসযোগ্য সার্টিফিকেটটা দিয়েছে পাকিস্তান পার্লামেন্ট৷ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক ও কড়া প্রতিবাদ পাবার পর পাকিস্তান সহজে আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাবে বলে মনে হয় না৷''
তুহিন সরকার তাঁর ব্লগের শিরোনাম দিয়েছেন, ‘পাকিস্তানের আসল রূপ!' লিখেছেন, ‘‘১৬ ডিসেম্বর আমাদের মহান বিজয় উদযাপনের প্রাক্কালে একাত্তরের মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধের দায়ে আবদুল কাদের মোল্লার (কসাই কাদের) ফাঁসি কার্যকর করা নিয়ে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে নিন্দা প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে৷ একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লাকে সমর্থন, পাকিস্তানের নগ্নরূপ আবারো জাতির কাছে প্রকাশ৷ সাপকে বিশ্বাস করা যায় কিন্তু জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের সহযোগী পাকিস্তানকে বিশ্বাস করা যায় না৷''
তিনি লিখেছেন, ‘‘গতকাল মঙ্গলবার সময় টেলিভিশনে সম্পাদকীয়তে সিনিয়র সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান বললেন, এই নিন্দা প্রস্তাবগুলোকে আমাদের ইগনোর করতে হবে৷'' ব্লগার তুহিন সরকারের প্রশ্ন, ‘‘আর কত ইগনোর করবো? দীর্ঘ ৪২ বছরতো ঐ সন্ত্রাসীগুলোকে ইগনোর করলাম, আর আমাদের ইগনোরের ফলাফলই হচ্ছে ওদের ক্ষমতার উৎস৷ জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডবে তা পরিষ্কার৷ এখন প্রতিরোধের সময়, সন্ত্রাসীগুলোকে দাঁতভাঙা জবাব দেয়ার সময়৷ আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের শত্রু জামায়াত-শিবিরসহ অন্যান্য কুচক্রী মহলকে প্রতিহত করি৷''
আহমেদ রশীদের পোস্টের শিরোনাম, ‘‘অবশেষে প্রমাণিত হলো বিএনপি-জামাত পাকিস্তানের এজেন্ট৷'' তিনি লিখেছেন, ‘‘পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছে কাদের মোল্লার পাকিস্তানের প্রতি ভালোবাসা ছিল, সে আমাদের বন্ধু৷ তাহলে বুঝতে হবে এই জামায়াতে ইসলাম কি বাংলাদেশি না পাকিস্তানি? এটা সকলের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে৷...সুতরাং এ থেকে প্রমাণিত হলো, জামাত-বিএনপি এরা আমাদের দেশের নয়, এরা সম্পূর্ণ পাকিস্তানি৷ তাই পাকিস্তানের এজেন্টদের এ দেশে ঠাঁই নেই৷ এ দেশ থেকে তাদের দূর করতে হবে৷ পাকিস্তানি যত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে অবিলম্বে সেগুলো নিষিদ্ধ করা বড় জরুরি৷ এছাড়া পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূতের কার্যালয় এ দেশ থেকে উৎখাত করতে হবে৷ তাদের বংশধর এদেশে রাখলে হয়তো বাংলাদেশ বড় ধরণের হুমকির সম্মুখীন হতে পারে এবং বড় ধরণের নাশকতা করতে পারে৷''
সংকলন: অমৃতা পারভেজ
সম্পাদনা: জাহিদুল হক
2013-12-16
বাংলাদেশের বিজয় দিবসে মানব পতাকায় বিশ্ব রেকর্ড
দৈর্ঘ্যে ৪৩০ এবং প্রস্থে ২৮৫ মিটার আয়তনের এই মানব পতাকা তৈরি
২৭,১১৭জন স্বেচ্ছাসেবক। বিজয়ের এই দিনে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে বাংলাদেশ৷ দুপুরে লাল আর সবুজ বোর্ড মাথার ওপর তুলে ধরেন ২৭ হাজার ১১৭ জন কিশোর-তরুণ৷ শেরেবাংলা নগরের প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে সূর্যের দিকে মুখ তুলে হাসলো বাংলাদেশের পতাকা৷
গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের অনুমোদিত পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানব পতাকা' তৈরির এ আয়োজনের উদ্যোক্তা মোবাইল ফোন অপারেটর রবি৷ আর ‘লাল-সবুজের বিশ্বজয়' শিরোনামের এ আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী৷
রবি'র ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ তালাত কামাল জানান, ‘‘গিনেজের সব নিয়ম মেনে সুষ্ঠুভাবে মানব পতাকা তৈরি হলো কি না, তার প্রমাণ হিসাবে তথ্য ও ছবি পাঠাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত অডিট প্রতিষ্ঠান৷ নতুন রেকর্ড হলে গিনেজ কর্তৃপক্ষই সে ঘোষণা দেবে৷''
Labels:intertainment
Bangladesh Politics,
Indian News,
World News
‘যুদ্ধাপরাধী মুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার'
স্বাধীনতা বিরোধী চক্রকে আর কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না৷ যে-কোনো মূল্যে তাদের প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা৷ তরুণ প্রজন্মের কণ্ঠেও যুদ্ধাপরাধী মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার৷
স্বাধীনতার ৪২ বছর পূর্তিতে সোমবার সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দেয়ার পর সবার কণ্ঠেই ছিল নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের অঙ্গীকার৷ বিজয় দিবসের ঠিক তিন দিন আগে যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ায় এবারের দিনটি অন্যভাবে পালিত হচ্ছে৷
এদিকে ‘গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস'এর অনুমোদিত পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে এদিন ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানব পতাকা' তৈরি হয়েছে৷ ২৭ হাজার ১১৭ জন স্বেচ্ছাসেবী এতে অংশ নেন৷ আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাখো কণ্ঠে একসঙ্গে উচ্চারিত হলো ‘‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি৷''
স্মৃতিসৌধে মানুষের ঢল
সোমবার ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা৷ সকাল ছয়টা ৩৯ মিনিটে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ তিন বাহিনীর একটি দল শহিদদের প্রতি জানায় সশস্ত্র সালাম৷ বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর৷ কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী৷ এরপর আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে নেতা-কর্মীদের নিয়ে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা৷ পরে শ্রদ্ধা জানান জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী৷ শহিদদের উদ্দেশে ১৪ দলের নেতা-কর্মীরা, তিন বাহিনীর প্রধান ও বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের শ্রদ্ধা জানানো শেষে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে নামে জনস্রোত৷ ফুলে ফুলে ভরে ওঠে স্মৃতিসৌধের বেদিমূল৷
স্মৃতিসৌধে মানুষের ঢল
সোমবার ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা৷ সকাল ছয়টা ৩৯ মিনিটে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ তিন বাহিনীর একটি দল শহিদদের প্রতি জানায় সশস্ত্র সালাম৷ বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর৷ কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী৷ এরপর আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে নেতা-কর্মীদের নিয়ে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা৷ পরে শ্রদ্ধা জানান জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী৷ শহিদদের উদ্দেশে ১৪ দলের নেতা-কর্মীরা, তিন বাহিনীর প্রধান ও বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের শ্রদ্ধা জানানো শেষে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে নামে জনস্রোত৷ ফুলে ফুলে ভরে ওঠে স্মৃতিসৌধের বেদিমূল৷
বিরোধী নেত্রীর শ্রদ্ধা
সকাল আটটা পাঁচ মিনিটে বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান৷ এ সময় তাঁর সঙ্গে দলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন৷
‘এখনই প্রতিরোধের সময়'
রাজধানীর মিরপুর থেকে স্মৃতিসৌধে যাওয়া মুক্তিযোদ্ধা আলী আকবর হোসেন বললেন, ‘‘জামায়াত শিবির যেভাবে দেশে হত্যাযজ্ঞ, নাশকতা চালাচ্ছে তাতে আর সহ্য করা উচিত হবে না৷ এখনই তাদের প্রতিরোধ করতে হবে৷'' পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা আরেকজন মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বললেন, ‘‘সরকার যদি যুদ্ধাপরাধী, রাজাকারদের রুখতে না পারে তাহলে মুক্তিযোদ্ধাদের জমা দেয়া অস্ত্র যেন ফিরিয়ে দেয়া হয়৷ মুক্তিযোদ্ধারাই আবার তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে৷''
স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে যাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আবদুল মতিন বললেন, ‘‘লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই বাংলাদেশে কোনোভাবেই যুদ্ধাপরাধীদের ঠাঁই হবে না৷ তাই সবাইকে নতুন করে শপথ নিতে হবে যুদ্ধাপরাধীমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণের৷''
‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান' সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হুমায়ূন কবির বলেন, তরুণ প্রজন্ম ও দেশবাসী সব যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি কার্যকর দেখতে চায়৷ একজনের ফাঁসি দিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে হবে না৷
‘সবচেয়ে বড় পতাকা’
বিজয়ের এই দিনে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে বাংলাদেশ৷ দুপুরে লাল আর সবুজ বোর্ড মাথার ওপর তুলে ধরেন ২৭ হাজার ১১৭ জন কিশোর-তরুণ৷ শেরেবাংলা নগরের প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে সূর্যের দিকে মুখ তুলে হাসলো বাংলাদেশের পতাকা৷
গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের অনুমোদিত পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানব পতাকা' তৈরির এ আয়োজনের উদ্যোক্তা মোবাইল ফোন অপারেটর রবি৷ আর ‘লাল-সবুজের বিশ্বজয়' শিরোনামের এ আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী৷
রবি'র ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ তালাত কামাল জানান, ‘‘গিনেজের সব নিয়ম মেনে সুষ্ঠুভাবে মানব পতাকা তৈরি হলো কি না, তার প্রমাণ হিসাবে তথ্য ও ছবি পাঠাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত অডিট প্রতিষ্ঠান৷ নতুন রেকর্ড হলে গিনেজ কর্তৃপক্ষই সে ঘোষণা দেবে৷''
লাখো কণ্ঠে জাতীয় সংগীত
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যে রেসকোর্স (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ময়দানে আত্মসমর্পণ করেছিল সেই জায়গায় লাখো কণ্ঠে একসঙ্গে উচ্চারিত হলো ‘‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি৷'' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই গানটিই একাত্তরের রণাঙ্গণে বাঙালি জাতিকে প্রেরণা যুগিয়েছিল, শক্তি দিয়েছিল – যা পরে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসাবে গ্রহণ করা হয়৷
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্থাপিত ‘বিজয় ২০১৩' মঞ্চে বিকাল ৪টা ৩১ মিনিটে এই গানে কণ্ঠ মেলান উপস্থিত লাখো জনতা৷ একাত্তরেও ঠিক এই সময় আত্মসমর্পণ করেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী৷
2013-12-15
হিংসার জবাবে সাদা পতাকায় সতর্কবার্তা ব্যবসায়ীদের
সাদা পতাকা হাতে হাতে রাজপথে নেমে এসে হরতাল, অবরোধ ও সহিংসতার প্রতিবাদ জানালেন ব্যবসায়ীরা, চাইলেন শান্তি, ঐক্য ও রাজনৈতিক সমঝোতা।
রোববার জামায়াতে ইসলামীর হরতাল-নাশকতার মধ্যেই নিরাপত্তার দাবি নিয়ে রাজধানীসহ সারা দেশে এই কর্মসূচি পালন করেন হাজার হাজার ব্যবসায়ী।
সকাল ১১টায় তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ ভবনের সামনে মানববন্ধনের পর ব্যবসায়ীদের একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি শেষ হয় মতিঝিলের এফবিসিসিআই ভবনের সামনে গিয়ে।
বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নিজস্ব ব্যানার আর সাদা পতাকা নিয়ে একই সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে এ কর্মসূচিতে যোগ দেন হাজার হাজার ব্যবসায়ী।
একই সময়ে সাদা পতাকা হাতে মিছিল হয় রাজধানীর উত্তরা ও মিরপুর এবং দেশের সব জেলা শহরেও। ব্যবসায়ীরা এ কর্মসূচিকে বলছেন ‘প্রতিবাদ-বন্ধন’।
মতিঝিলে এফবিসিসিআই ভবনের সামনে এক সমাবেশে ব্যবসায়ীদের এই শীর্ষ সংগঠনের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রধান দুই দলের কাছে একটা বার্তা গেল। আমরা বলতে চাই, ব্যবসায়ীরা শান্তি চায়। শান্তি প্রতিষ্ঠা না হলে ব্যবসায়ীরা আরো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।”
এই ব্যবসায়ী নেতা বরেন, দুই দল সমঝোতায় এলে জাতির জন্য শান্তি আসবে। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানও সম্ভব হবে।
“আমরা হরতাল-অবরোধমুক্ত বাংলাদেশ চাই, আমরা সবার জন্য শান্তি চাই, সব সহিংসতার অবসান চাই।”
মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে দৈনিক বাংলা মোড় পর্যন্ত এলাকা এ সময় স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে। ব্যবসায়ীরা সাদা পতাকা তুলে কণ্ঠ মেলান- ‘শান্তি চাই, শান্তি চাই’।
হরতাল-অবরোধেও সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হবে জানিয়ে সরকারের কাছে নিরাপত্তা চান এফবিসিসিআই সভাপতি।
কাজী আকরাম বলেন, দেশের এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অনেকেই ঋণের কিস্তি শোধ করতে পারছেন না।
কোনো ব্যবসায়ী ঋণের কিস্তি শোধ করতে ব্যর্থ হলে আপাতত তাকে ঋণখেলাপী ঘোষণা না করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি নিয়ে দেশের প্রধান দুই দলের মতানৈক্যের মধ্যে গত কয়েক সপ্তাহে বিরোধী দলের টানা হরতাল ও অবরোধে প্রতিদিন কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি করে আসছেন ব্যবসায়ীরা।
পরিবহন মালিকদের দেয়া হিসেবে, গত এক বছরে হরতাল ও অবরোধসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে প্রায় ৮০০টি গাড়ি এবং ভাংচুরের শিকার হয়েছে প্রায় ৩ হাজার গাড়ি। এতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৯৪ কোটি টাকা।
রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যেই ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলকে আলোচনায় বসাতে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দুটি উদ্যোগ ব্যর্থ হয়ে যায়।
এরপর জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ-তারানকোর মধ্যস্ততায় প্রধান দুই দল আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়।
এ প্রসঙ্গ টেনে কাজী আকরাম বলেন, “তারা আমাদের কথা শোনেননি। শুনেছেন বিদেশিদের কথা। আমাদের কথার মূল্যায়ন করা হয় না। আমাদের যাতে মূল্যায়ন করা হয়, সেজন্য আমাদের আরো কঠোর হতে হবে।”
তারপরও এই সংলাপ সফল হবে বলেই তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সারা দেশের ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে অর্থনীতি সংকটাপন্ন; মৃতপ্রায়। আমরা বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছি। দরকার হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেব। আপনারা সবাই প্রস্তুত থাকবেন।”
এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি সালমান এফ রহমান, মীর নাসির হোসেন, আনিসুল হক, এ কে আজাদ, বিজিএমইএর সভাপতি আতিকুল ইসলামও এই সমাবেশে বক্তেব্য দেন। তারা সবাই রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সালমান এফ রহমান রাজনীতিবিদদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা ব্যর্থ হলে দেশের নেতৃত্ব আমাদের নিতে হবে। আজ আমরা শুধু এটাই দেখালাম, ব্যবসায়ীরা শান্তির জন্য ঐকবদ্ধ। আমরা আপনাদের(রাজনীতিবিদদের) শ্রদ্ধা করি। কিন্তু যেভাবে দেশ চলছে তা আর সহ্য করা যাচ্ছে না।”
মীর নাসির হোসেন বলেন, “এই বাংলাদেশ দেখার জন্য দেশ স্বাধীন হয়নি। অনেক দেরি হয়ে গেছে। এখন আর সময়ক্ষেপণ করবেন না। সমাধান বের করেন। মানুষ বাঁচান। ব্যর্থ হলে ক্ষমা পাবেন না।”
আনিসুল হক বলেন, “এখন যে বাংলাদেশ দেখছি তা আমরা চিনি না। সবকিছু সীমার বাইরে চলে গেছে।… এটা কি বাংলাদেশ না সোমালিয়া? ইরাক না লিবিয়া?”
দুই নেত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আপনারা দুজন আমাদের নেত্রী, আপনারা দুজন মা। আপনাদের কাছে আবেদন, স্বার্থের উপরে উঠে আসুন।”
এ কে আজাদ বলেন, “আন্দোলন না করে আলোচনার মাধ্যমে আপনাদের দ্বন্দ্ব সমাধান করুন। আমাদের পুড়িয়ে লাশ বানিয়ে রাজনীতি করবেন না।”
আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘অসুস্থ রাজনীতির’ জন্য দেশের শিল্প-বাণিজ্যও ‘অসুস্থ’ হয়ে পড়েছে। দেশের মানুষ এই রাজনীতি চায় না।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি মো. হেলালউদ্দিন।
ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সংগঠন ছাড়াও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, কভার্ড ভ্যান ও ট্রাক মালিক সমিতি এবং গার্মেন্ট একজিকিউটিভ অ্যাসোসিয়েশনও এ কর্মসূচিতে অংশ নেয়।
এরশাদের পাশে গওহর রিজভী
সিএমএইচে থাকা নিয়ে নানা ভাষ্যের মধ্যে সেখানে গিয়ে এইচ এম এরশাদের সঙ্গে দেখা করে
এলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা রোববার বিকালে তার স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে
ঢাকা সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে যান।
জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানকে আটক করে রাখা হয়েছে বলে তার বিশেষ উপদেষ্টা অভিযোগ করে
এলেও এই সাক্ষাত অনুষ্ঠানের ছবিতে রিজভীর সঙ্গে এরশাদকে হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায়।
স্লিপিং স্যুট পরা এরশাদকে রিজভীর হাত ধরে কথা বলতে দেখা যায়। দুজনে এক সোফায় বসে
কথাও বলেন। রিজভীর স্ত্রী ফুল নিয়ে যান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের জন্য।
সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে প্রথম গওহর রিজভীই জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানকে
দেখতে গেলেন। এর আগে সরকারি দলের নেতাদের দেখতে যাওয়ার গুঞ্জন শোনা গেলেও তা গুজব
বলে উড়িয়ে দেন এরশাদের উপদেষ্টা ববি হাজ্জাজ।
বিএনপির সঙ্গে সংলাপে আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দলের সদস্য রিজভী এর আগে জাতীয় পার্টির
সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রওশন এরশাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন।
জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয়ার পর জাতীয়
পার্টিতে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তাতে এরশাদের স্ত্রী রওশন ভোটে
অংশ নেয়ার পক্ষে বলে গণমাধ্যমের খবর।
বিএনপিবিহীন নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলে পর এরশাদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর
ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার থেকে তার দলের মন্ত্রীদের পদত্যাগ করতে বলেন।
এরপর নানা নাটকীয়তার মধ্যে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে আকস্মিকভাবে এরশাদের র্যাব
পাহারায় সিএমএইচে যাওয়ার খবর নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।
র্যাব অস্বীকার করলেও জাতীয় পার্টির এক নেতা ওই রাতে দাবি করেন, তার দলের
চেয়ারম্যানকে আটক করা হয়েছে। ওই রাতে দলের মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হওলাদার বলেন,
এরশাদ অসুস্থ বলে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এরপর এরশাদের বিশেষ উপদেষ্টা ববি হাজ্জাজ নিজেকে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের
মুখপাত্র দাবি করে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সাবেক এই রাষ্ট্রপতিকে আটক রেখে
নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।
‘জোর করে’ এমপি বানানো হচ্ছে এরশাদকে
বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেকে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের মুখপাত্র দাবি করে বিশেষ উপদেষ্টা ববি হাজ্জাজ শনিবার সংবাদ সম্মেলন ডেকে বলেছেন, নির্বাচনে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন এরশাদ।
জাতীয় পার্টি রিসার্চ অ্যান্ড স্ট্রাটেজি উইংয়ের প্রধান ববির গুলশানের বাড়িতে এই সংবাদ সম্মেলনে দলের কোনো নেতা উপস্থিত ছিলেন না; যদিও দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা থাকবেন বলে সংবাদ সম্মেলন আহ্বানের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল।
এরশাদের কাছ থেকে নির্দেশ পেয়ে মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে ববির দাবি। তিনি আরো বলেন, এখন থেকে তিনি জাতীয় পার্টির হয়ে কথা বলবেন।
তবে সিএমএইচে থাকা জাপা চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম সম্পর্কে কিছু বলেননি তিনি।
ববি বলেন, “উনি (এরশাদ) ইলেকশন করবেন না। উনাকে জোর করে এমপি বানিয়ে দেয়া হচ্ছে।”
এরশাদের সঙ্গে সরকারের কেউ কেউ হাসপাতালে আলোচনা করেছেন বলে বিভিন্ন সংবাদপত্রে যে খবর বেরিয়েছে, তা সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি।
নাটকীয় এক ঘোষণায় দশম সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানালেও এরশাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন নির্বাচন কমিশন গ্রহণ না করায় প্রার্থীর তালিকায় তার নাম থাকছে।
ববি বলেন, “চেয়ারম্যান চান গণতন্ত্র। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে গণতান্ত্রিক সরকার আসবে না। তাই তিনি এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু এরপরও পার্টির চেয়ারম্যান, জিএম কাদেরসহ অনেকেরই মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন গ্রহণ করা হয়নি।
“উনি এই নির্বাচনে নেই। যেহেতু উনি নেই, পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্যরা নেই, তাই জাপাও নেই।”
“উনি আমাকে তার মুখপাত্র হিসাবে মনোনীত করেছেন। পার্টির অন্য অনেকেই অনেক কথা বলবেন। কিন্তু সেগুলো তাদের ব্যক্তিগত মতামত। আমার মাধ্যমে চেয়ারম্যান যা বলবেন, তাই পার্টির স্টেটমেন্ট হিসাবে গ্রহণ করতে (গণমাধ্যমকে) অনুরোধ জানাচ্ছি।”
গত বৃহস্পতিবার আকস্মিকভাবে র্যাব পাহারায় এরশাদের সিএমএইচে যাওয়া ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রথমে জাতীয় পার্টির এক নেতা বলেন, তার দলের চেয়ারম্যানকে আটক করা হয়েছে। তবে তা অস্বীকার করে র্যাব।
ওই রাতে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, অসুস্থ হওয়ায় এরশাদ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাকে আটক করা হয়নি।
পরদিন এরশাদের ভাই ও দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জি এম কাদেরকে পাশে রেখে সংবাদ সম্মেলন করেন হাওলাদার। এরপর এক বিবৃতি পাঠিয়ে ববি বলেন, এরশাদ ‘আটক’ রয়েছেন।
জি এম কাদের ও হাওলাদারের ওই সংবাদ সম্মেলনে দেখা যায়নি এরশাদের স্ত্রী ও দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রওশন এরশাদ, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, মুজিবুল হক চুন্নুকে। এরা নির্বাচনে অংশ নেয়ার পক্ষে বলে সংবাদ মাধ্যমের খবর।
এর মধ্যে শুক্রবার রওশন এরশাদের সঙ্গে দেখা করতে যান আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদকে।
রওশনকে জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে যে খবর এসেছে, তা নাকচ করেছেন ববি।
2013-12-14
'Dont give too many visas'
Bangladesh has requested the Government of India to restrict issuing visas to Bangladesh nationals trying to cross over to West Bengal following sporadic violence and rioting in different parts of the country, says the "Indian Express".
In the past few weeks, all the Integrated Check Posts (ICPs) on Indo-Bangla border have witnessed a phenomenal increase in the number of Bangladeshis, both Hindus and Muslims, legally crossing over to India, mostly on medical grounds.
The Border Security Force and other central agencies working at border outposts had urged their counterparts in Bangladesh to check such migration.
Following this, the Bangladesh government requested the Indian authorities to tighten norms for issuing the visas, said the 'Indian Express' report.
As per the available records, the ICP at Petrapole (Haridaspur) in North 24-Parganas saw 4,180 Bangladeshi nationals enter West Bengal on December 6 compared to the average per day entry of around 400 a day for the last few weeks.
Similarly, the Hilly ICP in North Dinajpur recorded entry of 234 Bangladeshi nationals on the same day against the per day average of 30.
The Changrabandha ICP in Coochbehar, which records average 26 entries, witnessed 498 Bangladeshis entering India on the day while another 211 Bangladeshis arrived in India through Mahadipur ICP, which sees an average of 23 entries per day.
The Gozadanga ICP in North 24-Parganas recorded 445 entries on the day compared to daily average of 50.
According to sources in immigration department, most of the people who entered legally have got their visas on medical grounds.
"We have issues with infiltration and most of time we try to push them back. But now many people are coming with legal documents. The rate of exit is not proportionate with the rate of entry," said a senior BSF official. However, he said, the number has decreased after the restriction on issuance of visa.
A senior police official said that the most sensitive points, including Petrapole and Gozadanga, are under strict vigil as the districts bordering in Bangladesh including Jessore and Khulna are strong bases of BNP, the opposition party in Bangladesh.
"There is direction from the central government to deploy more forces at the sensitive points," said a senior BSF official.
S P Tiwari, DIG, BSF, south Bengal said, "We are maintaining a strict vigil at the border points. However, till now no untoward incident has been reported at the border."
Subscribe to:
Posts (Atom)




















