Showing posts with label Indian News. Show all posts
Showing posts with label Indian News. Show all posts
2013-12-25
উত্তেজনা প্রশমনে ১৪ বছর পর বৈঠক
2013-12-19
বাংলাদেশ সংক্রান্ত বিলের খসড়া ছিঁড়ল মমতার দল
বিরোধী কয়েকটি দলের প্রতিবাদ সত্ত্বেও ভারত-বাংলাদেশ স্থলসীমা চুক্তি সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল ভারতের সংসদে পেশ করা হয়েছে৷ এর পরপরই সংসদের শীতকালীন অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি হয়ে যায়৷
আগামী মাসে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের ঠিক আগে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ছিটমহল হস্তান্তর সংক্রান্ত স্থলসীমা চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য ১১৯ তম সংবিধান সংশোধনী বিলটি ভারতীয় সংসদের শীতকালীন অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি হয়ে যাবার কয়েক মিনিট আগে উচ্চকক্ষ রাজ্যসভাতে পেশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সলমান খুরশিদ৷ এর আগের অধিবেশনে কেন্দ্র চেষ্টা করেও তা পেশ করতে পারেনি৷ বিশেষ করে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস এবং আসাম গণপরিষদের বাধার কারণে৷ এবারেও একই দৃশ্য৷ তৃণমূল এবং এজিপির সাংসদরা বিলের খসড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হাত থেকে কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন৷ ছুটে যান স্পিকারের মঞ্চের দিকে৷ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সভার অধিবেশন মুলতুবি রাখতে হয়৷ লক্ষ্যণীয়, বিজেপি মৌখিক প্রতিবাদ করলেও হৈ-হট্টগোল থেকে দূরে ছিল৷
যেনতেন প্রকারে শেষ মুহূর্তে বিল পেশ করার একটিই কারণ – সরকার মনে করে, সংসদের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও বিলটিকে জিইয়ে রাখতে পারলে আগামী বছরের মাঝামাঝি নতুন সংসদে তা পাস করাতে সুবিধা হবে৷
পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন, প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে মৈত্রী সম্পর্ক বজায় রাখা ভারতের জাতীয় স্বার্থের পক্ষে যে কতটা জরুরি তার জন্য নেপথ্যে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে ক্রমাগত সওয়াল করে যায় মনমোহন সিং সরকার৷ ২০১৪ সালে উভয় দেশেই সংসদীয় নির্বাচন৷ ভারতে কংগ্রেস বা বিজেপি যে দলই ক্ষমতা আসুক বাংলাদেশকে দেয়া স্থলসীমা চুক্তি বাস্তবায়নে ভারত যদি তার অঙ্গীকার পালন করতে না পারে, তাহোলে তার পরিণাম খারাপ হবে৷ পাশাপাশি, বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপুমনি কয়েকবার দিল্লিতে এসে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকে বোঝাবার চেষ্টা করেন এই বলে যে, এই চুক্তি বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে শেখ হাসিনার হাত শুধু শক্তই করবে না, দুদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নিয়ে যাবে এক স্থায়ী উচ্চতায়৷
শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় সরকার এবং বাংলাদেশ সরকারের তরফে মমতা বন্দোপাধ্যায়কে নানাভাবে রাজি করাবার চেষ্টা করা হয় অতীতে, কিন্তু তিনি তাঁর আপত্তিতে অবিচল৷ তাঁর আপত্তির কারণ, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলির বিনা সম্মতিতে একতরফাভাবে এই বিল পেশ করা হয়েছে৷ এই চুক্তি কার্যকর হলে আসাম, ত্রিপুরা এবং উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির চেয়ে বেশি ক্ষতি হবে পশ্চিমবঙ্গের৷ রাজ্যের ১৭ হাজার একর জমি চলে যাবে বাংলাদেশে৷ বিনিময়ে পাবে মাত্র ৭ হাজার একর জমি৷ এটা মেনে নেয়া যায় না৷ মমতার ভাষায়, ‘‘সংসদীয় ভোটের আগে কংগ্রেসকে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে দেয়া হবে না৷''
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমন কল্যাণ লাহিড়ি ডয়চে ভেলেকে এই প্রসঙ্গে বলেন, পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থে কেন্দ্রের উচিত আরো কড়া অবস্থান নেয়া৷ যেহেতু এটা আন্তর্জাতিক চুক্তি, তাতে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বক্তব্য থাকতে পারে, কিন্তু তা মানা কেন্দ্রের পক্ষে বাধ্যতামূলক নয়৷ এখানে যেহেতু সার্বভৌম রাষ্ট্রের জমি হস্তান্তরের প্রশ্ন জড়িত, তাই সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন দরকার৷
‘যুক্তরাষ্ট্র, তোমার মুখে মানবাধিকারের কথা শোভা পায় না'
ভারতীয় কূটনীতিক দেবযানী খোবরাগাড়েকে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার এবং তাঁর প্রতি জঘন্য আচরণের বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় চলছে৷ ব্লগাররা মনে করেন ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটা শিক্ষা৷ বাংলাদেশেরও এ থেকে শেখার আছে বলে মনে করেন তাঁরা৷
ঘটনার দীর্ঘ বিবরণ দিয়েছেন রেজা ঘটক৷ সামহয়্যারইন ব্লগে ‘টিট ফর ট্যাট: আমেরিকা-ভারত কূটনৈতিক যুদ্ধে মার্কিনিরা ধরাশায়ী'- শিরোনামে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘‘মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিতে যাওয়ার সময় ব্যস্ত রাস্তা থেকেই আটক করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে কর্মরত ভারতীয় দূতাবাসের ডেপুটি কনসাল জেনারেল দেবযানী খোবড়াগাড়েকে৷ পরে দেবযানীকে বিবস্ত্র করে দেহ তল্লাশি করে হাজতখানায় স্ট্রিট প্রস্টিটিউট ও ড্রাগ ইউজারদের সঙ্গে রাখা হয়৷ দেবযানীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ মার্কিন প্রশাসনের সেটি হলো, ২০১২ সালে নিউ ইয়র্কে ডেপুটি কনসাল জেনারেল পদে যোগ দিয়ে দেবযানী ভারত থেকে সঙ্গীতা রিচার্ড নামে একজন পরিচারিকাকে ‘জাল ভিসায়' অ্যামেরিকায় নিয়ে যান এবং মার্কিন আইন অনুসারে ন্যূনতম মজুরি থেকে সেই পরিচারিকাকে তিনি কম বেতন দিতেন৷ ভিয়েনা কনভেনশনে কূটনৈতিক রক্ষাকবচ বা শিষ্টাচারের যে সংস্থান রয়েছে তার উল্লেখ করে মার্কিন কর্তৃপক্ষ দাবি করে দেবযানী এরমধ্যে পড়েন না৷ যা করা হয়েছে সবকিছুই নাকি মার্কিন আইন মেনেই করা হয়েছে৷''
এ প্রসঙ্গে অতীতে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল কালাম, প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজ এবং বলিউড তারকা শাহরুখ খানের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণের দৃষ্টান্তও তুলে ধরেছেন রেজা৷ দেবযানীর পাশে দাঁড়িয়ে ক্ষুব্ধ ভারত যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তারও বিবরণ দিয়েছেন তিনি৷ চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন, সামহয়্যারইনের এই ব্লগারের লেখায় তারও উল্লেখ আছে৷
দেবযানীর বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের অযৌক্তিকতা, অসারতার বিষয়টি তুলে ধরতে গিয়ে রেজা ঘটক লিখেছেন, ‘‘ভারতীয় প্রশাসনের দাবি, ভারতীয় কূটনীতিকরা দেশ থেকেই পরিচারক-পরিচারিকা নিয়ে যান৷ সরকারি কর্মী হিসেবে পাসপোর্ট তো বটেই, বেতনের বাইরেও তাঁদের নানারকম সুযোগ-সুবিধা দেয় সরকার৷ কিন্তু গোলমাল বাঁধে আমেরিকা-ইউরোপে যাওয়ার পরে৷ পাকাপাকিভাবে থেকে যেতে পারলে অনেক সুযোগ-সুবিধা, এ কথা বোঝার পরেই তাঁরা প্রথমে উধাও হয়ে যান৷ তখন তাঁদের পাসপোর্ট বাতিল হয়৷ তার পরে উদয় হয়ে সেই পরিচারক বা পরিচারিকা অভিযোগ করেন, তাঁদের মজুরি কম বা তাঁরা পাচারের শিকার৷ মানুষ পাচারের শিকার প্রমাণ হলে অ্যামেরিকার বিশেষ ভিসা পেয়ে যান এঁরা৷ আর কয়েক বছর এই নিয়ে কাটাতে পারলেই মিলতে পারে নাগরিকত্বও৷ এ ক্ষেত্রেও এমন হয়েছে বলেই সন্দেহ দিল্লির৷''
এমন সন্দেহের কারণও জানানো হয়েছে লেখায়, রেজা জানিয়েছেন, ‘‘যে পরিচারিকাকে নিয়ে এই কাণ্ড ঘটলো সেই সঙ্গীতা রিচার্ড জুন-জুলাই মাসে নিউ ইয়র্কেই নিখোঁজ হয়ে যান৷ পুলিশের কাছে অভিযোগ করেও তখন কোনো ফল হয়নি৷ ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানতে পেরেছে, দেবযানীর গ্রেফতারের মাত্র দু'দিন আগে ওই সঙ্গীতার স্বামী ফিলিপ ও দুই সন্তান নিউ ইয়র্কে যান৷ মার্কিন দূতাবাসই তাঁদের ভিসার বন্দোবস্ত করে৷ প্রথমে ফিলিপ দেবযানীর বিরুদ্ধে কম মজুরি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন৷ পরে তা প্রত্যাহার করে নেন৷''
দুই সন্তানের মা দেবযানীর প্রবাসে হেনস্থার শিকার হওয়ার ঘটনায় জোরালো প্রতিবাদ করে কংগ্রেস সরকার লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করছে – এমন সম্ভাবনাকে রেজা ঘটক উড়িয়ে দেননি৷ তবে দেশের সম্মান, দেশের কোনো নাগরিকের সম্মান রক্ষার প্রশ্নে ভারতের বিরোধী দলও যে সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে, এ বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন তিনি৷ তাঁর মতে, ‘‘আমেরিকা যে এখনো সভ্যতার কোনো ন্যূনতম সীমা অতিক্রম করতে পারেনি, তা তারা দেবযানীর ঘটনায় আবারো গোটা বিশ্বকে দেখিয়ে দিল৷''
যুক্তরাষ্ট্রের এই রূপটা বিশ্বের দরবারে ফুটিয়ে তোলার কৃতিত্ব ভারতের সরকার এবং রিরোধী দল, দু পক্ষকেই দিয়েছেন রেজা ঘটক৷
লেখাটি শেষ হয়েছে এভাবে, ‘‘এই আমেরিকাই যখন আবার দেশে দেশে মানবাধিকার নিয়ে কথা বলে, তখন তাদের নিজেদের চেহারা একবার আয়নায় দেখে নিলে বিশ্ববাসীরই সেটাতে অনেক লাভ হবে৷ স্যরি আমেরিকা,....তোমাদের মুখে মানবাধিকারের কথা একদম শোভা পায় না৷ বরং মানবাধিকার শব্দটি নিজেই লজ্জা পায় তোমরা যখন ওটা অন্যদের বেলায় উচ্চারণ কর৷ অ্যামেরিকা ও ভারতের এই কূটনৈতিক লড়াই থেকে বাংলাদেশের অনেক কিছুই শেখার আছে৷ বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে কেমন আচরণ করতে হবে, সেটি আমরা এই বিষয় থেকে শিক্ষা নিতে পারি৷''
একই বিষয়ে আরেকটি লেখা নজর কেড়েছে৷ আমারব্লগে রীতা রায় মিঠু বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলনেত্রী খালেদা জিয়ার কাছে প্রশ্ন রেখেছেন, ‘ম্যাডাম, এখনও প্রতিবাদ করবেন না?'
ব্লগার মিঠু স্বাভাবিক কারণেই মাননীয় বিরোধী দলীয় নেত্রী দেবযানী ইস্যুতে প্রতিবাদ করবেন বলে আশা করেননি৷ কাদের মোল্লার ফাঁসির পর একাত্তরে বাংলাদেশের শত্রুপক্ষ এবং সে কারণে কাদের মোল্লার ‘মিত্র দেশ' পাকিস্তানের সাম্প্রতিক আচরণের প্রসঙ্গে মিঠু লিখেছেন, ‘‘পাকিস্তানের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ, কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত, অশোভন আচরণে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ ক্ষুব্ধ হয়েছে.... সরকার পাকিস্তানের পার্লামেন্টে নেয়া প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে৷ বিরোধী দলীয় নেত্রীর কি উচিত নয় দেশের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের বর্তমান অবস্থানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করা? ... মাননীয় বিরোধী দলীয় নেত্রী, একবার খেয়াল করুন, দেশের স্বার্থের ব্যাপারে কিন্তু সব দেশেই সরকার এবং বিরোধী দল একসাথে কথা বলে, আমেরিকার পুলিশ ভারতীয় একজন কূটনীতিককে লাঞ্ছিত করেছে, তাতেই ভারতের সরকার এবং বিরোধী দল একসাথে অ্যামেরিকার মতো শক্তিশালী দেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে৷ ইমরান খান সমালোচিত হবেন জেনেও তার দেশের সরকারি সিদ্ধান্তের পক্ষে কথা বলতে পিছপা হননি৷ আর আপনি? ... আমাদের স্বাধীনতা বিরোধীদের পক্ষে সাফাই গেয়েছে পাকিস্তান৷ পাকিস্তান জামায়াত-ই ইসলাম কাদের মোল্লাকে নিজেদের লোক দাবি করে ‘শহীদ-ই-পাকিস্তান' বলেছে, আপনি কি এখনও চুপ করে থাকবেন? আর কিছু না হোক, বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী দলকে ত্যাগ করুন, প্লিজ!! আপনার স্বামী একজন মুক্তিযোদ্ধা, '৭১ এ আপনার স্বামীর যুদ্ধ ছিল যাদের বিরুদ্ধে, তারাই আজ আবার খামচে ধরতে চাইছে আমাদের ‘বিজয় নিশান', প্রতিবাদ করবেন না?''
সংকলন: আশীষ চক্রবর্ত্তী
সম্পাদনা: জাহিদুল হক
কূটনৈতিক শিষ্টাচার নিয়ে দিল্লি-ওয়াশিংটন সংঘাত চরমে
কূটনৈতিক শিষ্টাচার নিয়ে দিল্লি-ওয়াশিংটন সংঘাত চরমে
নিউইয়র্কের ভারতীয় কূটনীতিককে গ্রেপ্তার এবং হেনস্থা করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লি ও ওয়াশিংটনের বিরোধ এখন চরমে৷ ভারত এর প্রতিবাদে পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছে৷ সংসদে দলমত নির্বিশেষে সবাই এই ঘটনাকে ধিক্কার জানান৷
নিউইয়র্কে কর্মরত ডেপুটি কনসাল জেনারেল দেবযানী খোবড়াগাড়েকে যেভাবে রাস্তা থেকে গ্রেপ্তার এবং হেনস্থা করা হয়, তা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচারের বিপরীত৷ দেবযানীকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে গিয়ে জামাকাপড় খুলিয়ে দেহ তল্লাশি করা হয় এবং তাঁকে রাখা হয় দাগি আসামি এবং মাদকাসক্তদের সেলে৷ তারপর ভারতীয় মুদ্রায় আড়াই কোটি টাকার মুচলেকা দিয়ে তাঁকে জামিন দেয়া হয়, এমনটাই অভিযোগ৷ বছর উনচল্লিশের এই মহিলা কূটনীতিককে হেনস্থার ইস্যুতে সরকার সংসদে জানায় যে, তাঁকে ভারতে ফেরৎ আনার সব ব্যবস্থা করা হচ্ছে৷ এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং সংবাদ মাধ্যমকে বলেন এটা অত্যন্ত দু:খজনক ঘটনা৷ দেবযানীকে সসম্মানে ভারতে ফিরিয়ে আনার যাবতীয় ব্যবস্থা করা হচ্ছে৷ বিষয়টি সংসদে উঠলে দলমত নির্বিশেষে সব সাংসদ ধিক্কার জানিয়ে ভারতে কর্মরত মার্কিন কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে পাল্টা কড়া ব্যবস্থা নেবার দাবি জানান৷
বিক্ষোভ করছেন সাধারণ নাগরিক
গ্রেপ্তারি বিতর্কে পাল্টা ব্যবস্থা নিয়ে সরকার প্রথমেই চানক্যপুরি এলাকায় মার্কিন দুতাবাসের সামনে থেকে নিরাপত্তা বেষ্টনী তুলে নেয়৷ যে-কোনো লোক এখন সেখানে গাড়ি পার্ক করতে পারবে৷
মার্কিন প্রশাসনের এই ধরণের আচরণ গোটা দেশের প্রতি অপমান মনে করে নতুন দিল্লির মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়৷ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখানেই থেমে থাকেনি৷ মার্কিন কূটনীতিকদের বিনা পরীক্ষায় বিমানবন্দরে ঢোকার এবং বার হবার জন্য যে বিশেষ পাস দেয়া হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করে নেয়৷ নতুন দিল্লির মার্কিন কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারের কূটনৈতিক পরিচয়পত্র অবিলম্বে জমা দেবার নির্দেশ জারি করা হয়৷ দিল্লির মার্কিন দূতাবাসে এবং মার্কিন কূটনীতিকদের বাড়িতে যেসব ভারতীয় কাজ করেন, তাঁদের বেতন স্লিপ জমা দিতে বলা হয়েছে৷
বিরোধ স্রেফ কূটনৈতিক স্তরে থেমে থাকেনি৷ রাজনৈতিক বার্তা দিতে ভারত সফররত মার্কিন সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক বাতিল করে দেন সংসদের স্পিকার মীরা কুমার, কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী, উপ-সভাপতি রাহুল গান্ধী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল শিন্ডে প্রমুখ৷ মনমোহন সিং সরকারের পাল্টা ব্যবস্থাকে স্বাগত জানিয়ে বিজেপি সাংসদ যশবন্ত সিনহার অভিযোগ, যদি ধরে নেয়া যায় দেবযানী মার্কিন আইন লঙ্ঘন করেছেন, তাহলে ভারতের অভ্যন্তরীণ আইন অনুসারে সমকামিতা অপরাধ৷ অথচ কয়েকজন মার্কিন কূটনীতিক সমকামী সঙ্গিদের সঙ্গে এনেছেন৷
তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদের ভাষায়, ‘‘নিজেকে বিশ্বের লোকপাল মনে করার অধিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেই৷'' কংগ্রেস সংসদীয় মন্ত্রী কমলনাথের মন্তব্য, ‘‘ভারত ব্যানানা রিপাবলিক নয়৷'' পররাষ্ট্রমন্ত্রী সলমান খুরশিদ এই ঘটনাকে দেবযানীর বিরুদ্ধে চক্রান্ত হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন৷ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেননের মতে, মেয়েকে স্কুলে দিয়ে ফেরার পথে তাঁকে যেভাবে গ্রেপ্তার করে জামাকাপড় খুলিয়ে দেহ তল্লাশি করা হয়, তা বর্বরোচিত আচরণ৷
দেবযানীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ
নিউইয়র্কের ভারতীয় কূটনীতিক দেবযানীকে গ্রেপ্তার
মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, ২০১২ সালে নিউইয়র্কে ডেপুটি কনসাল জেনারেল পদে যোগ দিয়ে ভারত থেকে একজন পরিচারিকাকে ‘জাল ভিসায়' নিয়ে যান দেবযানী এবং মার্কিন আইন অনুসারে ন্যূনতম মজুরি থেকে কম বেতন দিতেন তিনি৷ ভিয়েনা কনভেনশনে কূটনৈতিক রক্ষাকবচ বা শিষ্টাচারের যে সংস্থান আছে, সেই প্রসঙ্গে মার্কিন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, দেবযানী এরমধ্যে পড়েন না৷ যা করা হয়েছে মার্কিন আইন মেনেই তা করা হয়েছে৷ উল্লেখ্য, জামা জুতো খুলিয়ে দেহ তল্লাশির ঘটনা এই প্রথম নয়৷ এর আগে এ থেকে রেহাই পাননি এমনকি ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আবদুল কালাম, প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজ থেকে বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খান৷
ভারতের জনমত বলছে, এই ধরণের অপমানজনক ব্যবহারের উপযুক্ত জবাব না দিলে বিশ্ব ভারতকে মাড়িয়ে যাবে৷ বিদেশি দেশগুলির জন্য ভারতের আইন আরো কঠোর করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কোনো দেশ ভারতীয় কূটনীতিককে ব্ল্যাকমেল ও হেনস্থা করতে না পারে৷ নিন্দুকরা অবশ্য বলছেন, সংসদীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে মনমোহন সিং নিজের দুর্বল সরকারের তকমাটা ঝেড়ে ফেলতে চাইছেন৷
2013-12-16
বাংলাদেশের বিজয় দিবসে মানব পতাকায় বিশ্ব রেকর্ড
দৈর্ঘ্যে ৪৩০ এবং প্রস্থে ২৮৫ মিটার আয়তনের এই মানব পতাকা তৈরি
২৭,১১৭জন স্বেচ্ছাসেবক। বিজয়ের এই দিনে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে বাংলাদেশ৷ দুপুরে লাল আর সবুজ বোর্ড মাথার ওপর তুলে ধরেন ২৭ হাজার ১১৭ জন কিশোর-তরুণ৷ শেরেবাংলা নগরের প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে সূর্যের দিকে মুখ তুলে হাসলো বাংলাদেশের পতাকা৷
গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের অনুমোদিত পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানব পতাকা' তৈরির এ আয়োজনের উদ্যোক্তা মোবাইল ফোন অপারেটর রবি৷ আর ‘লাল-সবুজের বিশ্বজয়' শিরোনামের এ আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী৷
রবি'র ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ তালাত কামাল জানান, ‘‘গিনেজের সব নিয়ম মেনে সুষ্ঠুভাবে মানব পতাকা তৈরি হলো কি না, তার প্রমাণ হিসাবে তথ্য ও ছবি পাঠাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত অডিট প্রতিষ্ঠান৷ নতুন রেকর্ড হলে গিনেজ কর্তৃপক্ষই সে ঘোষণা দেবে৷''
Labels:intertainment
Bangladesh Politics,
Indian News,
World News
2013-12-14
How difficult is it to wear a sari?
Without six meters long and how complicated without a stitched fabric will wear? The sari has always been my love and hate relationship.
Whenever I see an Indian woman wrapped in silk protective shield I would wish me to wear a sari.
Wear sari is often difficult to explain.
A tip gives rise to neck and shoulder sari, on a woman, and then rustling silk Slvten Ugdha abdomen, waist size regardless of what happens, he is also gentle and even symbolic.
But there is also six meters of fabric I have left the hopeless and confused.
Who wants a little - little fragile to be forced to move?
Being a woman of Indian origin, I always wanted to learn to wear a sari. And now I can not live in India, so no excuses. My Khuskismti a sari in Delhi school.
The school sari
On Saturday morning a day - morning and went into his jeans and black t-shirts, the school where some Indian and some foreign women were learning to wear a sari.
Rita Kapur Chishti teaches wear a sari. His age is close to 60 years and know the complete history of the sari. He says that he first wore at the age of five and 108 ways to wear sari she knows.
Chishti says the sari to be worn over the garment's life. Bag tied tight or loose, or tied down, showing navel pregnant woman wearing a sari from youth to old age may be worn. It can be worn as a dress, or short like Sarong like.
Rita Kapur Chishti wear the sari sari teach in school.
Those of us in India isolated pockets talks about sarees. Rajasthan bracket, Moga silk of Assam, Gujarat and Kashmir woolen Patola saris.
Last, we are practicing our saris - I was cotton sarees with golden border. A British woman has a long silk sari. Indian fashion design student is a red sari.
'Overseas Petticoats'
We wear sarees five different - different ways to learn. The simple sari wrapping three times, each time with a slightly elevated folds of the skirt so that it becomes a kind. The end of the sari is wrapped around the neck.
Rita Kapur Chishti says the sari to be worn with a petticoat underneath - after wearing which I have to take small steps - in fact, alien thing, they wear India in the late 19th century, were introduced.
But we are told that we'd like to replace petticoats on our trousers can wear sari or saree can be tied at the waist. Earlier women were not ironed saris, they were simply pack them into bundles.
Now I have my green silk small - small steps rather not fill that everything is under control.
After all, we tend to learn the most traditional way to wear sari, the sari is wrapped twice around his waist, to cover the heel, like a flower folds forward given and an end is put on the shoulder.
'Gentle and courteous "
India almost every part of the women wear saris.
I wore a sari for the first time in 40 years on my own and it was quite good looking!
I am with women ask whether they are going to wear this sari?
Because no other dresses like sarees neither benign nor gracious will.
After a nine-yard sari to wear after I'd put a photo on the Internet. The most spectacular ways to wear a sari, an Indian friend of mine says, "Just be gone."
I think for a moment, "the right to wear trousers."
Then I'd remember that no matter what happens, at least I know that my clothes will fit me and it is too full of too much liberty.
Ombudsman's nothing to lose elections: Rahul Gandhi
Congress vice-president Rahul Gandhi has said that his party is committed to the Lokpal bill and pass it along to the needs of all parties.
He said that the defeat of the Congress in the recent elections have nothing to do with the Lokpal Bill.
Lokpal Bill introduced in the Rajya Sabha, the government on Friday to discuss on Monday. It has already passed in the House.
In the Lower House passed the bill, which was referred to the Select Committee had recommended some modifications.
The recent elections in four states, the Congress suffered defeats
लोकपाल विधेयक को लेकर विपक्षी भारतीय जनता पार्टी के साथ सरकार की सहमति बन गई है लेकिन सरकार को बाहर से समर्थन दे रही समाजवादी पार्टी इसका विरोध कर रही है.
BJP leader Arun Jaitley said on Monday that he wants to discuss the Lokpal bill and the same day it is passed.
'Strong Lokpal'
Rahul Gandhi said, "There is enough time to discuss the Lokpal law. These strong bill and transparent manner, the focus is on the issue of corruption."
He said had the support of all parties, we will pass it on '. He said the issue of national interest.
एक सवाल के जवाब नें राहुल गांधी ने कहा कि संसद में लोकपाल विधेयक को पेश करने का हाल के विधानसभा चुनावों के नतीजों से कोई संबंध नहीं है.
He said the fight against corruption is an ongoing process.
Lokpal Rahul Gandhi's statement comes at a time when social activist Anna Hazare demanding Jan Lokpal sitting on fast.
Rahul Gandhi said about Anna Hazare's fast, "Anna G are on a hunger strike. They have their point of view., Where our work so that we can give this country a strong Lokpal."
Rahul said, "Congress party would fully support it. Remaining parties say we support it."
'CBI under Lokpal'
Earlier, Finance Minister P Chidambaram said that this is an effective Ombudsman and the Ombudsman of an inquiry under the government do - will not give.
He said the Select Committee of the Rajya Sabha (the Select Committee) which drafted the Lokpal, the government may only have two or three shifts.
Anna Hazare was sitting on fast for Jan Lokpal
He said that the Government of the Ombudsman, "has captured the interests of the prosecution and investigation agency. Should we think that this bill passed. Strong Lokpal Bill will come through."
Samajwadi Party opposed the bill on a question about Chidambaram said that "one or two parties are opposed to certain provisions of the Bill. No Party is not saying that we should not Lokpal. I would tell him to come with the bill in the national interest. "
Law Minister Kapil Sibal said that the Lokpal Bill has been made clear how the agency will work closely with him, but will not by CBI chief ombudsman. It is a separate process and will be continued.
Sibal said, "CBI under Lokpal will work."
2013-12-12
সমকামিতা অবৈধ রায়ে হতাশ আমির খান
ভারতে সমকামিতা অবৈধ বলে রায় দেয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন বলিউড তারকারা৷ তাঁরা মনে করেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সমকামিতাকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, যা মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন৷
হলিউড তারকা এং মানবাধিকার কর্মী মিয়া ফারোও বলিউড তারকারদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আদালতের রায়ের সমালোচনা করেছেন৷ রায় ঘোষণার দিনটিকে তিনি ভারতের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকারের আলোকে ‘‘একটি কালো দিন'' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন৷

এক বিবৃতিকে বলিউড তারকা আমির খান জানিয়েছেন, ‘‘আমি এই রায়ে অত্যন্ত হতাশ৷ এটা অগ্রহণযোগ্য এবং মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন৷''
অভিনেতা জন আব্রাহাম টুইটারে লিখেছেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্ট সমকামিতাকে অপরাধ বলছে... এটা লজ্জার কথা৷'' চলচ্চিত্র নির্মাতা অনির - যিনি সমকামীদের অধিকারের দাবিতে সোচ্চার - জানিয়েছেন, ভারতের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এটা একটি কালো দিন হয়ে থাকবে৷
প্রসঙ্গত, সমকামিতার বিষয়টি নিয়ে গোটা বিশ্বে বিতর্ক রয়েছে৷ নেদারল্যান্ডস হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম দেশ যেখানে সমলিঙ্গের মধ্যে বিয়ে বৈধ ঘোষণা করা হয়৷ ২০০১ সালের এপ্রিল থেকে সেদেশে এটি কার্যকর আছে৷ ২০০৩ সালের জুন মাসে নেদারল্যান্ডসের প্রতিবেশী দেশ বেলজিয়ামে সমলিঙ্গের মধ্যে বিবাহ বৈধ করা হয়৷ অন্যদিকে আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইওয়াহানা সিগুরডোটির এবং তাঁর সঙ্গিনী ইওহিনা লিওসডোটির সমকামী
দের বিয়ে বৈধ ঘোষণার পর প্রথমেই সেই সুযোগ নিয়েছেন৷ সিগুরডোটির হচ্ছেন পৃথিবীর প্রথম মেয়ে সমকামী রাষ্ট্রপ্রধান৷
২০০১ সাল থেকে সমলিঙ্গ যুগলের বিয়ের রেজিস্ট্রেশন বৈধ করেছে জার্মানি৷ এই প্রক্রিয়ায় জার্মানিতে বিয়ের সুযোগ সুবিধার অনেকটাই পান সমকামীরা৷ কিন্তু যৌথভাবে সন্তান দত্তক নেওয়া কিংবা পূর্ণ আয়কর সুবিধা এখনো পায় না সমকামী দম্পতিরা৷ চলতি বছরের জানুয়ারিতে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, জার্মানির ৬৬ শতাংশ জনসাধারণই সমকামীদের মধ্যে বিয়ের পক্ষে৷
উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে বাংলাদেশে দুই তরুণীর মধ্যে মালাবদল নিয়ে সৃষ্টি হয় ব্যাপক বিতর্ক৷ ২১ বছর বয়সি শিক্ষিকা সানজিদা আর তাঁর ছাত্রী, ১৬ বছর বয়সি শ্রাবন্তী রায়ের মধ্যকার প্রেমের সম্পর্ক মোটেই স্বাভাবিকভাবে নেয়নি সমাজ৷ এমনকি বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গিয়েও রেহাই পাননি তারা৷
হলিউড তারকা এং মানবাধিকার কর্মী মিয়া ফারোও বলিউড তারকারদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আদালতের রায়ের সমালোচনা করেছেন৷ রায় ঘোষণার দিনটিকে তিনি ভারতের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকারের আলোকে ‘‘একটি কালো দিন'' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন৷

এক বিবৃতিকে বলিউড তারকা আমির খান জানিয়েছেন, ‘‘আমি এই রায়ে অত্যন্ত হতাশ৷ এটা অগ্রহণযোগ্য এবং মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন৷''
অভিনেতা জন আব্রাহাম টুইটারে লিখেছেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্ট সমকামিতাকে অপরাধ বলছে... এটা লজ্জার কথা৷'' চলচ্চিত্র নির্মাতা অনির - যিনি সমকামীদের অধিকারের দাবিতে সোচ্চার - জানিয়েছেন, ভারতের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এটা একটি কালো দিন হয়ে থাকবে৷
প্রসঙ্গত, সমকামিতার বিষয়টি নিয়ে গোটা বিশ্বে বিতর্ক রয়েছে৷ নেদারল্যান্ডস হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম দেশ যেখানে সমলিঙ্গের মধ্যে বিয়ে বৈধ ঘোষণা করা হয়৷ ২০০১ সালের এপ্রিল থেকে সেদেশে এটি কার্যকর আছে৷ ২০০৩ সালের জুন মাসে নেদারল্যান্ডসের প্রতিবেশী দেশ বেলজিয়ামে সমলিঙ্গের মধ্যে বিবাহ বৈধ করা হয়৷ অন্যদিকে আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইওয়াহানা সিগুরডোটির এবং তাঁর সঙ্গিনী ইওহিনা লিওসডোটির সমকামী
দের বিয়ে বৈধ ঘোষণার পর প্রথমেই সেই সুযোগ নিয়েছেন৷ সিগুরডোটির হচ্ছেন পৃথিবীর প্রথম মেয়ে সমকামী রাষ্ট্রপ্রধান৷
২০০১ সাল থেকে সমলিঙ্গ যুগলের বিয়ের রেজিস্ট্রেশন বৈধ করেছে জার্মানি৷ এই প্রক্রিয়ায় জার্মানিতে বিয়ের সুযোগ সুবিধার অনেকটাই পান সমকামীরা৷ কিন্তু যৌথভাবে সন্তান দত্তক নেওয়া কিংবা পূর্ণ আয়কর সুবিধা এখনো পায় না সমকামী দম্পতিরা৷ চলতি বছরের জানুয়ারিতে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, জার্মানির ৬৬ শতাংশ জনসাধারণই সমকামীদের মধ্যে বিয়ের পক্ষে৷
উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে বাংলাদেশে দুই তরুণীর মধ্যে মালাবদল নিয়ে সৃষ্টি হয় ব্যাপক বিতর্ক৷ ২১ বছর বয়সি শিক্ষিকা সানজিদা আর তাঁর ছাত্রী, ১৬ বছর বয়সি শ্রাবন্তী রায়ের মধ্যকার প্রেমের সম্পর্ক মোটেই স্বাভাবিকভাবে নেয়নি সমাজ৷ এমনকি বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গিয়েও রেহাই পাননি তারা৷
ভারতে সমকামিতা অপরাধ: প্রতিক্রিয়া
ভারতে ফৌজদারি দণ্ডবিধির যে ৩৭৭ ধারায় সমকামিতাকে অপরাধ বলে গণ্য করা হয়, সেটিকে বহাল রাখার পক্ষে রায় দিয়েছে সে দেশের সুপ্রিম কোর্ট।
এর আগে ভারতের বিভিন্ন সমকামী সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মীদের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯ সালে দিল্লি হাইকোর্ট এই ধারাটি বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছিল, কিন্তু দেশের শীর্ষ আদালত এই নির্দেশ খারিজ করে দিয়েছে।সুপ্রিম কোর্ট আরও বলেছে, সমকামিতা নিয়ে দেশে নতুন আইন করতে হলে সে দায়িত্ব পার্লামেন্টারিয়ানদের।
ভারতে সমকামীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দীর্ঘদিন ধরে নেতৃস্থানীয় ভূমিকায় আছেন আইনজীবী আদিত্য ব্যানার্জি, দিল্লিতে বিবিসির শুভজ্যোতি ঘোষ তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিলেন এই রায় তাদের জন্য কত বড় ধাক্কা?
এর আগে ভারতের বিভিন্ন সমকামী সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মীদের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯ সালে দিল্লি হাইকোর্ট এই ধারাটি বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছিল, কিন্তু দেশের শীর্ষ আদালত এই নির্দেশ খারিজ করে দিয়েছে।সুপ্রিম কোর্ট আরও বলেছে, সমকামিতা নিয়ে দেশে নতুন আইন করতে হলে সে দায়িত্ব পার্লামেন্টারিয়ানদের।
ভারতে সমকামীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দীর্ঘদিন ধরে নেতৃস্থানীয় ভূমিকায় আছেন আইনজীবী আদিত্য ব্যানার্জি, দিল্লিতে বিবিসির শুভজ্যোতি ঘোষ তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিলেন এই রায় তাদের জন্য কত বড় ধাক্কা?
বিদেশিনি পর্যটকরা ভারতে যেতে ভয় পাচ্ছেন
ভারতে বিদেশি মহিলা
পর্যটকের সংখ্যা ক্রমশই
কমছে৷ কারণ, যৌন অপরাধের লক্ষ্য
হচ্ছেন তাঁরা! চলতি বছরের প্রথম
তিন মাসে বিদেশিনি
পর্যটকের সংখ্যা, আগের
বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫
শতাংশ কম ছিল৷
সাম্প্রতিক একটি ঘটনা
সারা ভারতেরই ভরসার
ভিত নড়িয়ে দিয়েছে৷
বেঙ্গালুরু প্রবাসী এক
বাঙালি মহিলা তথ্য-প্রযুক্তি কর্মী তাঁর অফিসের আরও
অনেকের সঙ্গে কেরলে বেড়াতে গিয়েছিলেন৷
ওঁরা সবাই ছিলেন কেরলের পূভারে
একটি বেশ নামকরা রিসোর্টে৷ ওই রিসোর্টের
দুই কর্মী ৪০ বছর বয়সি
ওই মহিলার
ঘরের পিছনের দরজার
ছিটকিনিটি অকেজো করে রেখে, মাঝরাতে
মহিলার ঘরে ঢোকে এবং মহিলাকে
ধর্ষণ করে৷ পুলিশি তৎপরতায় অবশ্য
দুই অপরাধীই ধরা পড়েছে, কিন্তু
ভারতের ১০০ শতাংশ স্বাক্ষর রাজ্য
এবং পর্যটকদের জন্য
অত্যন্ত নিরাপদ বলে পরিচিত কেরলের
ইমেজে কালি মাখিয়েছে
ওই ধর্ষণের
ঘটনা৷
ভারতের বিভিন্ন পর্যটক
আকর্ষণের জায়গায় এখন মহিলা পর্যটকদের
জন্যে, বিশেষ করে বিদেশিনীদের জন্যে দুশ্চিন্তা
হচ্ছে যৌন হেনস্থার
ভয়৷ সাধারণভাবে যেসব
পর্যটনকেন্দ্র ভারতে জনপ্রিয়,
সেই দিল্লি, আগ্রা,
রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং
গোয়ায় প্রায়ই শোনা যাচ্ছে বিদেশি
মহিলা পর্যটকদের যৌন
লাঞ্ছনার ঘটনা৷ পর্যটকদের
স্বর্গরাজ্য বলে সুনাম
অর্জন করা হিমাচল প্রদেশেও মাদকজনিত
অপরাধ, রাহাজানি, যৌন
নিগ্রহ এমনকি খুনের মতো গুরুতর
অপরাধও ঘটেছে, যদিও বিক্ষিপ্তভাবে৷ সেই তালিকায় নবতম সংযোজন
দক্ষিণ ভারতের কেরল,
পর্যটন দপ্তরের বিজ্ঞাপনে
যে রাজ্যকে
“গডস ওন কান্ট্রি”,
অর্থাৎ স্বয়ং ঈশ্বরের
প্রিয় জায়গা বলে অভিহিত করা
হয়!
প্রতিবাদ, বিক্ষোভের পরও বাস্তব পরিস্থির সামান্যই
উন্নতি হচ্ছে
তবে ভারতের যে
জায়গা থেকে প্রায়ই পর্যটকদের অভিযোগ আসে, ঘটনাচক্রে সেই গোয়ার সমুদ্রসৈকতই ভারতে বিদেশি
পর্যটকদের সবথেকে পছন্দের
গন্তব্য৷ সম্প্রতি গোয়াতে
এক জার্মান
যুবতীর অভিযোগের ভিত্তিতে
এক ভারতীয়
যোগব্যায়াম প্রশিক্ষক পুলিশের হাতে
গ্রেপ্তার হয়েছে৷ কৃষ্ণ
শর্মা নামে উত্তরপ্রদেশ
থেকে আসা ৩৬ বছরের ওই
যোগগুরুর সঙ্গে অভিযোগকারিনী
জার্মান পর্যটকের আলাপ
হয়েছিল গোয়ার আঞ্জুনা
সৈকতের একটি পার্টিতে৷
পার্টির পর কৃষ্ণ মহিলাকে ছেড়ে
দিতে তাঁর গেস্ট হাউস পর্যন্ত
গিয়েছিল৷ সেখানেই সে মহিলাকে ধর্ষণ
করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে৷
উল্লেখ্য, এই বছরেরই মার্চে একেবারে
একই ধরনের একটি যৌন অপরাধের
অভিযোগ দায়ের হয়েছিল
খাস কলকাতা শহরে৷
সেক্ষেত্রেও পার্টিতে আলাপ
হওয়া এক বিদেশিনীকে
ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার
হয়েছিল কলকাতার এক যুবক৷
পুলিশের বক্তব্য, ভারতের
মতো দেশে, যেখানে
ছেলে-মেয়েদের মেলামেশা
পশ্চিমী দেশের মতো অত সহজ
এবং সাবলীল নয়, সেখানে সদ্য
আলাপ হওয়া লোকজনের
ব্যাপারে বিদেশি পর্যটকদের
সাবধান থাকাই উচিত৷ কিন্তু বিদেশিরা
যেহেতু এমনতর বিধিনিষেধ
মেনে মেলামেশায় অভ্যস্ত
নয়, তাঁরা সহজেই ফাঁদে পা
দেন৷ তবে যেখানে অটো বা
ট্যাক্সি ড্রাইভার, কিংবা
হোটেলের কর্মীদের হাতে
বিদেশি মহিলা পর্যটকদের
যৌন হেনস্থা হচ্ছে,
সেখানে পুলিশ বা প্রশাসন দায়
এড়াতে পারে না৷ যদিও সব
ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টা পুলিশের নজরদারি
সম্ভবও নয়৷ সেজন্য ভারতে যাঁরা
পর্যটকদের সরাসরি সংস্পর্শে
আসেন, তাঁদের সচেতনতা
বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া
হয়েছে৷
ভারতে নারী নিরাপত্তার
জন্য কি আদৌ কোনও কাজ
হচ্ছে?
কিন্তু তাতে কি
আদৌ কোনও কাজ হচ্ছে! যেমন
গত প্রায়
দু-তিন
বছর ধরে ভারতে শুরু হয়েছে
এক সরকারি
প্রচার, যার শিরোনাম হলো ‘‘অতিথিদেব
ভব৷'' অর্থাৎ অতিথি
যে দেবতার
সমান, শতাব্দী প্রাচীন
সেই ভারতীয় মূল্যবোধের
কথা স্মরণ করিয়ে বিদেশিদের প্রাপ্য সম্মান
এবং সমাদর নিশ্চিত
করার প্রচেষ্টা করছে
সরকার৷ কেন্দ্রীয় পর্যটন
মন্ত্রকের এক টিভি বিজ্ঞাপনে হিন্দি চলচ্চিত্রের
জনপ্রিয় অভিনেতা আমির
খান হাজির হয়ে মনে করিয়ে
দিচ্ছেন অতিথি সৎকারে
ভারতীয় ঐতিহ্য এবং পরম্পরার কথা৷
অতি সম্প্রতি আমির
খান এবং ভারতীয় দুরদর্শনের যৌথ প্রযোজনা,
দেশে-বিদেশে ভারতীয়
দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক
জনপ্রিয় ‘‘সত্যমেব জয়তে''
অনুষ্ঠানের প্রোমোতে দেখানো
হচ্ছে দিল্লির এক পাঞ্জাবি শিখ
অটো চালককে, যিনি
নিজের জীবনের ঝুঁকি
নিয়ে এক বিদেশি মহিলা পর্যটককে
আরও দুই অটোচালকের
লালসার হাত থেকে উদ্ধার করেছিলেন৷
কিন্তু বাস্তব পরিস্থির
তাতে উন্নতি হচ্ছে
সামান্যই৷ চলতি বছরের প্রথম তিন
মাসে ভারতে বিদেশি
মহিলা পর্যটকের সংখ্যা,
আগের বছরের একই সময়ের তুলনায়
৩৫ শতাংশ
কম ছিল৷
বছরের মাঝামাঝি সময়ের
হিসেব, এবার ভারতে বিদেশি পর্যটকদের
বুকিং আগের বছরগুলোর
তুলনায় ২৫ শতাংশ কম হয়েছে৷
কেন্দ্রীয় সরকারের পর্যটনমন্ত্রী
চিরঞ্জিবী সংসদে দাঁড়িয়ে
স্বীকার করেছেন, ভারতে
মহিলাদের যৌন নিগ্রহের
ঘটনায় পর্যটনশিল্পে প্রভাব
পড়েছে, মার খাচ্ছে পর্যটন৷
Source: http://www.dw.de/
+bbc.com +cnn.com +bdnews24.com
2013-11-30
The Assam Rape Festival in India begins this week - News - Bubblews
The Assam Rape Festival in India begins this week - News - Bubblews
http://www.bubblews.com/news/1697395-the-assam-rape-festival-in-india-begins-this-week
Subscribe to:
Posts (Atom)













